একদিন তুমি কবিতা থেকে হারিয়ে গিয়েছিলে—
আমি সারাদিন খুঁজেছি;
একবার বৃষ্টিতে ভিজে, একবার বিপ্লবী মিছিলে,
বৃষ্টির ছলে ভাসিয়ে দিয়েছি সমস্ত বর্ষাকাল।
টিয়া পাখি উড়ে গেছে যেখানে, সেখানেও…
আগামাসি লেন, মালিটোলার কালো গলি,
ঠাসাঠাসি ঠাঠারি বাজার, মাছের আড়তে;
কাঁচা মাছের গন্ধ গায়ে মেখে, বাতিকগ্রস্তের মতো
খুঁজেছি পুরনো অক্ষরের স্তূপ ঘেঁটে, নীলক্ষেতে—
৩২ তলা সিঁড়ি বেয়ে অফিসের ছাদে,
আত্মহত্যা থেকে ফেরা ব্যাকুল বিকেলে,
মধুমতি সিনেমা হলের অন্ধকার তন্ন তন্ন করে—
ঘাম জবজবে ৮ নম্বর যাত্রাবাড়ীর লোকালে,
দেখেছি লাস্ট ট্রিপ বাসের রিয়ার ভিউ মিররে,
বুড়িগঙ্গার ঘোলা জলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে।
খুঁজতে খুঁজতে চলে গেছি
শহর ছেড়ে গ্রামে— মদিনাদের উঠানে,
বড় নওপাড়া পদ্মার পাড়; হাহাকার ভাঙনে—
ঢেউয়ের সাথে ঢেউয়ে, লুকানো কথোপকথন;
তোলপাড় শ্বাসকষ্টের রাতে, বকুল ফুলের ঘ্রাণে;
একবার, বহুবার…
এমন অযুত-নিযুত খোঁজেও
কোথাও ছিলে না তুমি—।
একদিন তুমি কবিতা থেকে হারিয়ে গিয়েছিলে,
সেদিন কবিতাশূন্য হয়েছিল পৃথিবী;
সেদিন কিছুই লিখতে পারেনি কোনো কবি।