মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ফিনিক্স



যাও-
তোমাকে অধিকার দিয়ে দিলাম
যত পারো নিঃশেষ করে দেখাও.....

আমি উড়ছি-
অনিবার্য ভস্ম কণা কিংবা প্রাসারিত ডানা
উড়াল ব্যাকরণ তোমার অজানা.....

জানতে চেও না-
নিজেকে কতটা পোড়ালে পিঠে গজায় ডানা!

আমি অবধারিত উড়ন্ত
যতই জানতে চাও
আমি একটা সমাপ্তহীন অজানা.....

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৬

নির্লজ্জ আগন্তুক


কে হে তুমি আগন্তুক?
একলা মিছিলের একাকী ছায়া,
রক্তে কি জানি দ্রোহের মায়া—
পকেটে নিষিদ্ধ ইশতেহার।
বুকের পাটায় অকপট প্রেম,
ভাঙতে চাও মানচিত্রের কারাগার;
চোখের কোটরে শোষিত কারখানা,
জানো না?
এখানে জোছনারাও কিস্তির দেনা।
নৈঃশব্দ্যের নীলামে চড়ে আসে রাত,
তোমার হৃদপিণ্ড—যেন এক নিথর ধর্মঘট।
নারীটি তোমার কর্পোরেট বিছানায়,
কাঁপিয়ে দিচ্ছে স্টকের ভালুক-ষাঁড়;
কথা ছিল ঘাসফুল জড়ানো খোপায়—
ইতিহাস হাতড়ে ফেরা স্বপ্ন-অভিসার।
তাকিয়ে দেখো বিজ্ঞাপনের লাল ঠোঁট,
তোমার চুম্বন চুরি হয়ে গেছে কবেই;
প্রেম প্রেম খেলা—খোলামেলা অবলীলা,
সাম্যবাদের রোগ হারিয়ে দিয়েছে তোমাকেই।
আর কত সর্বস্ব হারাতে...
এই পুঁজিবাদী নারীদের দেশে—
কে হে তুমি সমাজতন্ত্রী প্রেমিক?
কে হে তুমি বিপ্লবী যুবক?
কে হে তুমি নির্লজ্জ আগন্তুক?

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৫

কালো কবিতা - ৭৮


তোমার জন্যে কবিতাগুলো লিখতে গিয়েও লেখা হয়নি !
সে এক অসমাপ্ত সরল প্রেম, দুঃখ আর বেদনার নামে
যে চোখ মেলেছিলো পাখির মত ডানা ... একদা বুজেছিলো ঘুমের মতন!
আশে পাশের তোমার ছায়া গুলো ... দুঃস্বপ্নের মতন ...
আমি কেবল পালিয়ে বেড়াই ... কবিতার যন্ত্রনায়
সে এক অসমাপ্ত প্রেমের জ্বালায়;
দুঃখ আর বেদনার নামে যে কবিতাগুলো তোমার জন্যে
যে কবিতাগুলো লিখতে গিয়েও লেখা হয়নি!

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কালো কবিতা- ৭৬


দেখেছো; ছাই হয়ে গেছি
ঝলসানো যাপনের কিছু কিছু ফানুস ঐ দেখো উড়ছে বিলাসী বাতাসে
জ্বলন্ত শুন্যের চোখ যত খানি পেড়েছে খেয়ে নিয়েছে আমাকে 
এই দেখো এঁটো হয়ে গেছি ...
তবুও হায় ... কি দুর্বার বেঁচে বর্তে আছি!!!

কালো কবিতা- ৭৫

একবার হাত ধরে আমাকে উপলব্ধি করো
একবার চোখের দিকে তাকিয়ে; বিবর্নতায় 
যতটা সবুজ প্রান্তর দূর থেকে মনে হয়; কাছে এলে ধুসর
তারচেয়েও বেশী; সাদামাটা কষ্টের দায় এখোনো হয়নি শোধ!
শুধু এই খানেই আমাদের বিরোধ!!!

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫

আমার কথা শেষ হয়ে যায়



তোমাকে বলার আগেই
যে কথা শেষ হয়ে যায়
সে সব কথা সারাদিন কুড়াই
গুছিয়ে গুছিয়ে লুকিয়ে রাখি
গান শুনিয়ে ঘুম পাড়াই। 

তারপর তোমাকে বলার জন্যে
এক যুগ দুপুর পেরিয়ে বিশৃঙ্খল বিকেল
ভুল করা চায়ের কাপ এবং 
ব্যাকুল সন্ধ্যা মাথায় হুটকরে নেমে যায় রাত......

বিজ্ঞান নয়, নিয়তির অমোঘ অভিশাপে 
কথার চোখ জড়িয়ে আসে ঘুমে 
তারপর স্বপ্নমগ্ন ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যায়

তোমাকে যতবার বলতে চেয়েছি...
তাঁর আগেই 
আমার কথা শেষ হয়ে যায়...

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৪

প্রেমিক-৫৭


এই দ্যাখো আমি ফিরে গেছি
ফিরে গেছি ফ্যাকাসে নিল হয়ে
দূর হয়ে গেছি পর হয়ে গেছি 
দ্যাখো এইবার কত অচেনা অচেনা লাগে

এখন আর ব্যাথাতেও নেই
ভুল ভাল কথা গুলো মনে করে দ্যাখো, আমি সেখানেও নেই
দুপুরে বিষন্ন সিঁড়ি বেয়ে উঠে দেখো
সুন্ সান নীরবতা রেখে এসেছি
একা একা সাওয়ারের তলে- তুমি একান্ত নিজের
চিটে পড়া বেসিনের আরশিতে -
চিৎকার করে দ্যাখো- আমি নেই

যৌথ বালিশের জড়ানো বাহুডোরে
মাঝরাতে আভিসার চুম্বনে
ধাবমান স্বপ্নের বুননে এরপর শুভ্র সকালে
দ্যাখো সব ঠিক ঠাক আছে তোমার; আমি নেই
সেখানে আমি একেবারে নেই

ব্যাস্ত দিনের সূচি আর কলিগের উদগ্রীব দৃষ্টি
বিরক্তির দাঁড়কাক হয়ে বসে থাকা ক্লায়েন্ট
ধোয়াটে ফানুস উড়ানো গন্ধহীন কফির কাপের তৃপ্ত চুমুক
ভুল করে কি কি যেনো মনে পরে যাওয়া
ভয় নেই... আমি নেই ...
হঠাৎ ঝড়ে যাওয়া আনাহুত অশ্লীল বিকেলে বৃষ্টিতে
পরকীয়া মাখানো নাটক- আর রগে রগে ছলাকলা
সোশ্যালিস্ট সেজে থাকা তোমার কর্পরেট যাপনে
ভয় নেই... আমি নেই ... আমি ফিরে গেছি কবেই

টগবগে প্রেম নিয়ে বহুবার দরজার সামনে এসে
যেহেতু স্পর্ধা হারিয়ে ফেলেছি; তারপর মেনে নিয়েছি
এই প্রেম তোমার যোগ্য ছিলোনা;
অতঃপর ফিরে গেছি ফ্যাকাসে নিল হয়ে
দূর হয়ে গেছি তোমার চির প্রেমিক হয়ে!

মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

তুমি- ৫১


ধরাছোঁয়ার কাছাকাছি বড় হয়ে যাও
একদিন বেলুনে বাতাস আমিও ফুঁকেছি
আরো যত জন আসে যায়; তারাও ফুঁকছে;
ধরাছোঁয়ার বাইরে বড় হয়ে যাও; তুমি শুধু বড় হয়ে যাও
আমি ছোট, নাগালের বাইরে আরো ছোট;

আমি খুব ছোট হতে হতে ধুলি কনা হয়ে
প্রস্তুত হবো ঝড়ে উড়ে যেতে ;
তুমি যত উড়ে দূরে যাও;
আমি তবু থেকেই যবো ফানুসের নাগালেতে

বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৪

প্রেমিক-৫৬



বহুদুর উড়ে যাওয়া পাখির দ্বিগবেদ্বিগ
আমাদের প্রেম; দিশেহারা সিমানার শেষে
তারপর নির্বোধ দুঃখ বিলাসে
আবিরত ফিরে ফিরে আসা

প্রেম হাতে দাঁড়িয়ে থাকিনি তোমার দরজায়
স্পর্শ করিনি নির্বোধ যাদুকরী
ভিতরের ভিতরটাতে ঋণ আর প্রণদোনা জমে জমে
দেউলিয়া ভালোবাসা

সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৪

কালো কবিতা-৭৪



বেঁচে থাকা বোধ টাকে অস্বস্তির ঘুম দিয়ে গিলে ফেলি 
ইদানিং প্রতি রাতে; রাতারাতি মৃত্যুর সুখ পেতে চাই 
কেউ কেউ জেনে গিয়েছিলো কি; আধার যে কত অসহায়?
আরো খুব পরিণত রাত খুঁজে খুঁজে; শৌখিন ঘুম কেটে যায়

সোমবার, ৩০ জুন, ২০১৪

কালো কবিতা- ৭৩



যেহেতু জেগে উঠার স্বপ্ন দেখি 
তার অর্থ আমি ঘুমিয়ে আছি !!!

আমাদের খেয়ে নিচ্ছে প্রাণপণ ক্লান্ত
সজারু কাঁটার বালিশে শান্ত শান্ত 
অনুভূতিহীন জেগে উঠা তারপর আত্ম চিৎকার ...

তার অর্থ আমরা গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে আছি!

বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কালো কবিতা-৭২



স্বপ্নের নিচে তালপাখা লাগিয়ে দিয়েছি 
এইবার আরামছে ঘুমাও!!!

মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কালো কবিতা-৭১



স্বপ্নের মারপ্যাঁচে জঞ্জাল; তুমি যাদুকর 
যাদু করো 
আর যাদু করে করে জঞ্জালে মারপ্যাঁচে 
আরো আরো অভিভূত কর

আমি দিনকে দিনকে রাতের ছায়ায়
আমি পরে থাকি স্যাতস্যাতে বিছানায়
আর জঞ্জাল শ্যাওলায়
বিছানো মায়াজাল; তুমি মায়াবতী

আমাদের অনুদান দিয়েছো কালো সময়
মায়াবতী যাদুকর; নিদারুণ স্বপ্নময়!

বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৪

কালো কবিতা-৬৯



আমার পরিচয় দিতে গিয়ে আমি কেমন জানি ধাক্কা খাই বারবার
আমি ঠিক যা যা বলি
কেনো জানি মনে হয় সব শেখানো বুলি 
তারপর এতি উতি খুঁজি; 
এতি উতি কি জানি খুঁজি 


একদিন আমি আমার আত্মার সাথে দেখা করতে যাবো
এক দিন আমি আমার খোজ নেবো; ভালো মন্দ কুশল জেনে নেবো

শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৩

একা নও তুমি



একা নও তুমি এই হেরে যাওয়া পথে,
যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় এসে;
অনেক লড়াই বাকি আছে জেনো আজও—
রাতের পরেই নতুন সূর্য হাসে।
আঁধার ফুঁড়ে যে পথ গিয়েছে দূরে,
সে পথেই হবে যে স্বপ্নের পথচলা;
বুকের ভেতর জমানো যতটা জেদ—
আরও আছে কিছু না-বলা কথা বলা।
রক্তে মিশুক হার-না-মানার গান,
পায়ের নিচে শক্ত থাকুক মাটি;
ঘোর কালো রাত কাটবেই একদিন—
ধৈর্যই হোক বিজয়ের পরিপাটি।
আকাশে-বাতাসে মেলে দাও আজ ডানা,
শিকল ছিঁড়ে হোক অবাধ্য পথ;
পাহাড় সমান বাধা আসুক না কেন—
ছুটবে অদম্য আগামীর জয়রথ।
মুছে ফেলো সব পরাজয় ইতিহাস,
ক্ষতগুলো হোক এগিয়ে যাওয়ার বল;
তুফানের পরে শান্ত নদীতে যেমন—
শাপলা ফোটে আর টলমল করে জল।
শেষ নেই কোনো, এ শুধু পথের শুরু,
দিগন্তরেখা ডাকছে তোমায় দূরে;
নিজেকে পুরোটা বুঝে নাও বিপ্লবে—
বিজয়ের গান বাজুক বুকের সুরে।
আমাকেও পাবে এ লড়াই যত দূরে,
হাতে হাত আর বুক মিলিয়ে বুকে;
ডাকছি তোমায় কাছে এসো বিপ্লবী—
ইতিহাস হবো আগুনের গান লিখে।
©রি হোসাইন

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৩

জোনাকির বাসা



নষ্ট আলোর নেশায়
পথ হারানো জোনাকির দল 
এক খণ্ড চাঁদ খুঁজে পেয়েছিলো 

একরাত বিদিশায়
দিশেহারা পরাজয় গুলো জেনে গেলো
নির্লিপ্ত আলো থেকে কালো-ই ভালো

আজকাল বিষণ্ণ অন্ধকার ঘেরা থাকে
জোনাকির বাসা গুলো

জোঁক





যদি পাপ হয় হোক 
আমি হয়ে যাবো জোঁক.....
চুমুকে চুমুকে খেয়ে যাবো তোমায়
জাপ্টে জড়িয়ে আমৃত্যু
ছুঁয়ে যাবো তোমায়.....

শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৩

পুড়ে যাওয়া রোদের ছাই


যেখানেই আমি যাই
তুমি বিছিয়ে রেখেছো
পুড়ে যাওয়া রোদের ছাই।

রুক্ষ আঙুলের স্পর্শের
রূপকথাতেও এখন
শূন্যতা ছাড়া কিছু নাই।

তবুও সে পথে পথে
অবাধ্য অভিমানী পায়ে,
কেবল তোমার দিকেই ধাই।

পুড়তে পুড়তে ক্লান্ত
আমি ছাই ভস্ম হয়ে যাই
আমার ফেরার জায়গা নাই।

আপন আকাশ-বাতাসে
ধূসর এই মানচিত্রের গায়ে
আমার বসতভিটা নাই।

দুঃসহ স্মৃতির বারুদে
জ্বলে ওঠে একা একা
কোথায় ফেরার পথটি পাই।

যতদূর আমি যাই
তপ্ত পথে হেঁটে হেঁটে তবু
কেবলই তোমায় চাই।

©রি হোসাইন

প্রেমিক-৫৫


এমন প্রখর দিব্যদৃষ্টি দিয়ে তুমি সব কিছু দেখে ফেলো 
তোমাকে নির্বোধ অনুসরণ ছাড়া আমি অন্ধ হয়ে যাই 
তোমাকে ঈশ্বরী সাজাই এই ভেবে ইশ্বর হয়ে যাই 

যাযাবর প্রেমিক সংসারী হয়ে গিয়ে দেখি 
আমার কোথাও যাওয়ার নাই ......

সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৩

সমঝোতা



প্রকাশ হয়ে যাবে অন্ধকার...
আমাদের ঠোঁটে লেগে থাকা নিষিদ্ধ অসুখ—
মহামারির মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাবে;
চলো তার আগেই লুকিয়ে ফেলি বিশুদ্ধ পাপ।
পরিপাটি নগ্নতা আমাদের গ্রাস করে নেবে,
পার্থিব নিয়মের বাইরে আড়াল খুঁজবে আলো;
মৌনতার অজুহাতে অস্তিত্ব থমকে দাঁড়াবে—
তার আগেই ভালোবেসে ফেলা ভালো।
চলো তার আগেই ভালোবেসে ফেলি...
চলো নগ্ন ইতিহাসের মুখোশ খুলে ফেলি।
©রি হোসাইন