বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১২
কবিতার রসুল
ধরে নাও, কিয়ামতের ঠিক আগে
আমাকে আবিষ্কার করা হলো
অথবা
আমার লেখা একমাত্র কবিতাটি মানুষ বুঝতে পারলো
পড়তে পারলো আমার উদ্ভাবিত ভাষা
ধ্বংসের ভিতর মানুষের একমাত্র উপলব্ধির বিষয় হলো কবিতা
তবেতো
আমিই কবিতার রসুল
আমার পরে আর কোন কবির জন্ম হবে না
সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১২
দাবী
আমাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হলো
আর সব দাঁড়কাকের মতো
আমাকেও আশ্রয় দিলো আম গাছ
যার মুকুলের গন্ধভরা ছিলো ঝড়ের বার্তা
আমি প্রথম সেই ভাষা শিখলাম
ঝড় আমারও বন্ধু হলো
একদিন বিকেলে,
সেই লণ্ডভণ্ড আম গাছের গ্রাম ছেড়ে...
অনেক দূরে, নদীর কাছে.....
গোমতী, তারপর তিতাস,
আমাকে সে নামিয়ে দিলো গোকর্ণ ঘাটে
কাছেপিঠে কোথায় জানি ইটভাটার চুল্লির বেশে
দাঁড়িয়ে আছে অশোক স্তম্ভ, নীতিকথা- গল্প
কে জানি আমার ক্ষুধাকে দিলো
নলা মাছের ঝোলে ঝাল ভাত
আমাকে গ্রাস করে নিলো মানুষের অধিকার
আমার একমাত্র দাবী হয়ে গেলো
মানুষ হয়ে জন্মাবার....
রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২
প্রেমিক-৪০
তোমার পুরুষ গুলো এখন মিথ্যা আবর্তে ঘুরপাক খায়
এখনো তোমার বয়ঃস্বন্ধি কালের স্রোত
এইবার যৌবন খুলে বিষাক্ত ফাল্গুন মেলো ধরো
আমিও প্রেমিক হয়ে মিথ্যে হয়ে যাবো ...
শনিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১২
ভুলের কাব্য
আমার ভুল তোমার মতো নয়
আমার ভুলে পাপ পূণ্য নেই
আমার ভুলের হা-হুতাশ গুলো প্রেম
তোমার ভুলের ব্যথায় ব্যথায় জমে।
আমার ভুলে চক্ষু অন্ধকার
তোমার ভুলের বিজয় সুনিশ্চিত
আমি কেবল ভুলের ঘোরে ভাসি
একাকার ওই তোমার ভুলের হাসি।
ভুলের মায়া ভুল ব্যথাতে ভুলুক
তোমার আমার ভুল বাতাসের দুখ
আমি তোমার ভুলে একাকার
ছল ছল চোখে এইতো আমার সুখ!
শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২
প্রেমিক- ৩৮
আশাহত রোদ্দুর দেখছি
দেখেছি আহত সমুদ্দুর
হাতের আঙ্গুল ছুঁয়েছিল শুকনো পাতার আগুন
কোথাও কবিতারা ভেসে গেছে কাগজের নৌকা হয়ে
বিষণ্ণ বৃষ্টি আর তোমাদের জলাধারে
তারপর ও পাল তুলে উড়ি
বিজিত নাবিক হয়ে
ব্যাথা - ২
একটা দ্রুতগামি স্বপ্নের সাথে ধাক্কা খেয়েছি
এখন ঘুমতে গেলেই শরীর ব্যাথা করে
বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১২
সমস্ত ঘৃণার শেষে
আমাকে ঘৃণা করার আয়োজন যতই করো
নিজেকে কিছুটা সামলে রেখো
ভালোবাসবার সামর্থ্যটুকু হারিয়ে ফেলো না।
এমনও তো হতে পারে সমস্ত ঘৃণার শেষে
আর কোনো জন্ম, কিয়ামত, হাসর, এমনকি সময়
আমাকে ভালোবাসা ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২
সত্তা
আমাদের কথা বলার জায়গায়
উপস্থিত হলেন রাজহাঁস
অমনি চুপ হয়ে গেলো কবুতর, ঘুঘু আর হেলে
হুট করে নেমে এলো সন্ধ্যা
আরামদায়ক তরলের স্বাদ বিশ্রী হয়ে গেলো
কেউ তাকে পছন্দ করে না,
লম্বা গলার জন্য
সভাপতি জিরাফ যখন উপস্থিত হলো
তখন প্রায় মধ্যরাত
কেউ কিচ্ছুটি না খেয়েই অপেক্ষায় ছিলো
তিনি আসার সাথে সাথেই
শেয়ালের অভিবাদন আর বন্দনা সংগীতে
আবার জমে উঠলো আসর
নাচলো বানর
গান গাইলো শুকর
দর্শক আসনের সামনের দিকেই ছিলেন বাঘ, সিংহ,
হাতি, অজগর, হাঙর এবং গন্ডার
আমাদের কথা বলার জায়গায়
কেবলই জিরাফ কথা বলেছিলো
নেকড়ে আসেনি
নেকড়েরা কুকুর নয়,
এরা বহু আগেই
কুকুর প্রজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২
পাঠচক্র
যেখানে আমার কোন অস্তিত্বই নেই
আমি যেখানে ছিলাম না, থাকবোও না
যেখানে আমার কোন জন্মও হয়নি
সেখানে
আমার কবিতা গুলো যে লিখবে
যারা পাঠ করবে
সেখানে যারা আমার মৃত্যু হতে দেবেনা
ঠিক আমি যেমন,
অন্য কোন কবির
কবিতা লিখে যাচ্ছি, পাঠ করে যাচ্ছি
অমর করে যাচ্ছি তাকে,
যার কোনদিন জন্মই হয়নি
এ যেনো
অবিরাম পাঠচক্র
জন্মহীন অমরত্ব
অন্য কোন কবির
কবিতা লিখে যাচ্ছি, পাঠ করে যাচ্ছি
অমর করে যাচ্ছি তাকে,
যার কোনদিন জন্মই হয়নি
এ যেনো
অবিরাম পাঠচক্র
জন্মহীন অমরত্ব
মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১২
প্রেমিক-৩৬
জ্বলে উঠা যৌবন লেলিয়ে দিয়েছি তোমার ঠোঁটে
এবং পৌরুষ মেলেছি উত্তাল দৃষ্টিতে
পৃথিবীর সমস্ত প্রেম দিয়ে তোমাকে সজিয়ে দেবো
পৃথিবীর এক মাত্র প্রেমিক হয়ে
এবং পৌরুষ মেলেছি উত্তাল দৃষ্টিতে
পৃথিবীর সমস্ত প্রেম দিয়ে তোমাকে সজিয়ে দেবো
পৃথিবীর এক মাত্র প্রেমিক হয়ে
প্রেমিক -৩৫
এরকম বিশ্বাস থেকে বিশ্বাসে খেলিনি আর
এরকম দূরবর্তী চুম্বনে তোমাকে জ্বালিয়ে দিয়ে
নিকটবর্তী করবো প্রেম
এরকম শীতকাল শুধু একান্তে একাকার হলে
পরাজয় গুলো আপন ধর্ম ভুলে যাবে
এই নাও সেই গর্বিত পরাজয় তোমায় দিলাম
পরাজয় গুলো আপন ধর্ম ভুলে যাবে
এই নাও সেই গর্বিত পরাজয় তোমায় দিলাম
প্রেমিক- ৩৪
এই ভাবে আমি এলোমেলো হয়ে যাবো
স্বপ্ন বোনার পর্যাপ্ত সুতা নেই
বিষণ্ণ আকাশে উড়ে গেছে কার্পাস তুলা
এখন বৃষ্টির ঘ্রান ছড়ানো বসন্ত বাতাসে
পরাজিত প্রেম ঘুরে ফিরে অগোছালো স্বপ্নের হুতাশে
সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২
কালো কবিতা - ৩২
দেখবো বলে অন্ধকারের শেষ
অন্ধ হয়ে অবাক হয়েছি
মৃত্যু কে-ই কালো ভেবে বসে থাকো বেশ
অথচ
মৃত্যুর চেয়েও বেশি কালো আমাদের যাপন
আর অহেতুক জীবন
অথচ
মৃত্যুর চেয়েও বেশি কালো আমাদের যাপন
আর অহেতুক জীবন
শুক্রবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১২
কালো কবিতা ৩১
দিক ভুলে গেছি আমি
কেবল মৌনতা চাই এখন
থেমে যাওয়া ঝরের মতন
প্রশ্রয় পেয়ে যাওয়া উত্তাপ গুলো এইবার জমে যাক
প্রেম থেমে যাক
আমি বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকবো
প্রাচীন দেবদারুর পাতা গলে বেরিয়ে আসা সূর্যের চোখে
কেবল মৌনতা চাই এখন
থেমে যাওয়া ঝরের মতন
প্রশ্রয় পেয়ে যাওয়া উত্তাপ গুলো এইবার জমে যাক
প্রেম থেমে যাক
আমি বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকবো
প্রাচীন দেবদারুর পাতা গলে বেরিয়ে আসা সূর্যের চোখে
বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১২
বিপ্লবি-৩৬
একটা নিঃশ্বাস আমি আটকে রেখেছি
এবং বুকের যন্ত্রনার মতই বয়ে বেরাচ্ছি
একটা শব্দ উঃচ্চারন করিনি এখনো
মরুভূমির ক্যাকটাসের মত লালন করছি
একটা স্বপ্ন বিস্ফোরণ দেখবো বলে
বহুকাল থেকে আমি ঘুমাইনা
সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১২
আমাদের দেখা হয়নি
আমাদের দেখা হয়নি এখনো,একসাথে যুদ্ধে যাবার কথা ছিল;অথচ, তুমি একাই যুদ্ধে গেলে আমারই প্রতিপক্ষ হয়ে।তবুও আমাদের দেখা হয়নি এখনো,কেননা আমি যুদ্ধে যাইনি।একটি কালো বিড়াল আমার পথ আগলে রেখেছিল,টিয়াপাখির আন্দোলনের মুখে পড়েআমি প্রত্যাহার করে নিয়েছি আমার অস্ত্র।আমাকে দলে ভিড়িয়ে নিয়েছে শিশুকাঠের গাছেরা—রোদেও যাদের ছায়া পড়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো।সেখানে বাতাসের শব্দে কোনো হাহাকার নেই,আছে কেবল রোদ, বাতাস আর পাতাদের আজন্মের মিতালি।আমি এখন মাছেদের দলে, আমাদের যুদ্ধে যেতে হয় না...তারপরও আমরা হত্যাযোগ্য...যেহেতু তোমার সাথে দেখা হয়নি এখনো, তাইতুমি আমাকে হত্যা করতে পারোনি।আমাকে হত্যার জন্য বানাচ্ছ ভারী ভারী সবক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এমনকি পারমাণবিক বোমা;অথচ আমি বুনছি এক আকাশ নীল স্বপ্নের জাল।তোমার সাথে দেখা হলে আমি তোমাকে পাখিদের বার্তা দেবো,তোমাকে নিয়ে বুনো হাঁসের মতো দেবো উড়ালনতুন নতুন দ্বীপে বাসা বানাবো;তোমার সাথে দেখা হলে তোমাকে ভালোবাসা দেবো।আমাদের দেখা হয়নি এখনো;তুমি আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছো হত্যা করতে,আর আমি তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি ভালোবাসতে।
আমাদের দেখা হয়নি এখনো,
একসাথে যুদ্ধে যাবার কথা ছিল;
অথচ, তুমি একাই যুদ্ধে গেলে আমারই প্রতিপক্ষ হয়ে।
তবুও আমাদের দেখা হয়নি এখনো,
কেননা আমি যুদ্ধে যাইনি।
একটি কালো বিড়াল আমার পথ আগলে রেখেছিল,
টিয়াপাখির আন্দোলনের মুখে পড়ে
আমি প্রত্যাহার করে নিয়েছি আমার অস্ত্র।
আমাকে দলে ভিড়িয়ে নিয়েছে শিশুকাঠের গাছেরা—
রোদেও যাদের ছায়া পড়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো।
সেখানে বাতাসের শব্দে কোনো হাহাকার নেই,
আছে কেবল রোদ, বাতাস আর পাতাদের আজন্মের মিতালি।
আমি এখন মাছেদের দলে, আমাদের যুদ্ধে যেতে হয় না...
তারপরও আমরা হত্যাযোগ্য...
যেহেতু তোমার সাথে দেখা হয়নি এখনো, তাই
তুমি আমাকে হত্যা করতে পারোনি।
আমাকে হত্যার জন্য বানাচ্ছ ভারী ভারী সব
ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এমনকি পারমাণবিক বোমা;
অথচ আমি বুনছি এক আকাশ নীল স্বপ্নের জাল।
তোমার সাথে দেখা হলে আমি তোমাকে পাখিদের বার্তা দেবো,
তোমাকে নিয়ে বুনো হাঁসের মতো দেবো উড়াল
নতুন নতুন দ্বীপে বাসা বানাবো;
তোমার সাথে দেখা হলে তোমাকে ভালোবাসা দেবো।
আমাদের দেখা হয়নি এখনো;
তুমি আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছো হত্যা করতে,
আর আমি তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি ভালোবাসতে।
রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১২
তুমি- ৩২
আমার জল পাত্রে বিষণ্ণ অশ্রু ঢেলে
এক উদাস বর্ষা সজিয়ে দিলে
এখন বৃষ্টির জল কোথায় রাখি
এ হৃদয় অনন্ত পাথার কতকাল থেকেই
এক উদাস বর্ষা সজিয়ে দিলে
এখন বৃষ্টির জল কোথায় রাখি
এ হৃদয় অনন্ত পাথার কতকাল থেকেই
শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১২
বৃহস্পতিবার
ব্যাস্ত নির্জনতা থমকে যায় শহুরে বিকেলে
শূন্যতা উথলিয়ে ঝড়ের আয়োজন
দিগন্ত ঢাকা পড়ে গেছে কংক্রিট দেয়ালে
অদ্ভুত অসময়; ক্লান্ত ফেরার সময়
লুটপাট হয়ে যায় বৃহস্পতিবার...
এরি মাঝে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখি
চোখ বুজে মনচোখ দিয়ে দেখি,
গোধূলির সূর্যটা যেন লাল শাড়ি পরে
দেখতেই থাকি, যেন ফিরতেছো ঘরে
সাধ হয়, নাম ধরে তোমাকে ডাকার...
©রি হোসাইন
শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২
কালো কবিতা ৩০
উত্তর গুলো অপেক্ষাকৃত সহজ প্রশ্ন গুলোর থেকে
ঠিক যেমনটা তুমি চেয়েছিলে
সার্কাসের সং দের মত হতেই চেয়েছি
কিংবা নদীর কিনারায় স্যাঁতস্যাঁতে বালিয়াড়ি
কি নিপুন সমাধান চাঁদ আর প্রেমে
ইদানিং সহজ সহজ প্রশ্ন গুলো
দ্বিধাগ্রস্থ ভগ্নাংশের উত্তরে বিদ্ধস্ত আমাদের জীবন জাপন গুলো
ঠিক যেমনটা তুমি চেয়েছিলে
সার্কাসের সং দের মত হতেই চেয়েছি
কিংবা নদীর কিনারায় স্যাঁতস্যাঁতে বালিয়াড়ি
কি নিপুন সমাধান চাঁদ আর প্রেমে
ইদানিং সহজ সহজ প্রশ্ন গুলো
দ্বিধাগ্রস্থ ভগ্নাংশের উত্তরে বিদ্ধস্ত আমাদের জীবন জাপন গুলো
সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২
কালো কবিতা-২৯
আদতে এই অন্ধকারও মশগুল হয়ে আছে
যেমনটা আসক্ত মাতালের চোখ ও তার বিবিধ ঘোর
দুঃখ ছিল কতেক রাতারাতি ভোর
আমাদের দৃষ্টির ধাধা কেবল আটকে গেছে
অপ্রস্তত নীলিমায়
আদতে এই অন্ধকারও মশগুল হয়ে আছে
আমাদের নেশা গ্রস্থ চোখ
দিগন্তে তাকানো ভুলে গেছে
সেখানে
প্রতিদিন অযথাই সূর্য উঠে
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)