বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৩
তুমি- ৪৭
একবার হারিয়ে যাওয়া বৃষ্টির খোঁজে
ঢুকে গিয়েছিলাম তোমার চোখের ভিতর
সেখানো সমুদ্র ছিলো
আমি তুলে নিয়েছিলাম দুরন্ত নোনাজল
আজ বিকেলে বৃষ্টি হয়েছিলো
একদা হৃদয়ে একটা বর্ষা কাল ছিলো তোমার জন্যে
আমার অশ্রুকে কেনো এতো স্বাধীন করেছো তুমি?
শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০১৩
ভেজা রাতের হাইকু
১.
ঝরে পড়া রাত
ভাঙ্গা জানালার
ভেজা হাহাকার
২.
তুমি তুমি তুমি
গীতি অশ্রুর
বৃষ্টির সুর
৩.
নির্মম রাত
অচেনা বৃষ্টির শহরে
স্মৃতির উৎপাত
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৩
বিপ্লবি-৪৩
একদিন দেখিয়ে দেবো
সব কিছু স্তব্ধ করে
আমিও শব্দ করে হাসতে জানি
সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৩
কালো কবিতা-৬২
প্রেম থেকে দীর্ঘ দুপুরের দুরত্ব মেপে যাচ্ছি
দীর্ঘ দুপুরটা ক্ষুধার কাছেও আসহায়
এই ভাবে রৌদ্র গিলতে গিলতে জ্বলন্ত সূর্যটা গিলে ফেলি
এরপর তুমি জানতে চাইছো কেমন আছি
তাহলে বলি
দীর্ঘ মৃত্যুর কাছে আসহায় যাবজ্জীবন
শনিবার, ৮ জুন, ২০১৩
তুমি- ৪৬
গোলাপের বিব্রত বোধ
কাঁটা বিধিয়ে দিলো
তুমি খোপা জুড়ে ভালোবাসা নিও
কালো কবিতা-৬১
যেখানে সমুদ্র থাকার কথা
সেখানে সূর্য এঁকে রাত্রির রুপকথা
সে কেমন বিরহ গাথা
অবাধ চোখের জলের নিঃশব্দ স্বাধীনতা
কালো কবিতা- ৬০
একটা বিত্তহীন ঘোড়ার পিঠে চড়েছিলাম
একজন বিষণ্ণ দৌড়বিদ সেজে
কেউ জানতো না অন্ধ ছিলাম
আমার পথ খোড়া বলে
বিজয় ছিনিয়ে নিলে
অন্যায় ছিলো সবকিছু
তবু কিছু ভুল হয়ে গেলো
কালো কবিতা-৫৯
তোমার কাছে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর বিন্দুর মত
কিংবা অবহেলিত বিষণ্ণ
আজ অবধি শব্দ গুলো দিশেহারা
আর ছটফটে রাত্রিও পরাজিত হলো না
আমার শোকার্ত আলো
একটা দিশেহারা কবিতার অন্ধকারে হারিয়েছিলো
বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০১৩
কালো কবিতা- ৫৮
এরকম দুপুর
মৃত্যুর কাছি কাছে থেকে এসেছে
আমি বার বার ভাবি নিরবতা ভেঙ্গে উত্তাপ হয়ে যাই
আমার নিরবতা বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনায়
মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৩
হাইকি- শ্রমিকার নুপুর
বিষণ্ণ বাতাসে
শুদ্ধ রক্ত মেশা
শ্রমিকার নুপুর
হাইকি- শুদ্ধ যুদ্ধ খেলা
নিঃশব্দ রক্ত
জামকালো তুফানে
শুদ্ধ যুদ্ধ খেলা
জামকালো তুফানে
শুদ্ধ যুদ্ধ খেলা
রৌদ্রের হাইকু
১
একটা রৌদ্দুর
মুঠো মুঠো ভরে
ছড়িয়েছে বহুদুর
২
ভাঙ্গা কাচেরে ফাকে
দুপুরের বেলা
উত্তাপ ঝাকে ঝাকে
৩
জড়ো কারা তাপ
একাকার রোদে
তোমার-ই অভিশাপ
৪
নুন জলা ঘামে
ক্লান্ত দুপুর
রোদ জমে জমে
শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৩
মৌমাছি ভুলে গেছে মাধু
মৌমাছি ভুলে গেছে মাধু
তার চেয়ে ভালো নেই, এক মুঠো ক্ষুধা নেই
এই ফুল সেই ফুল, ভুলে গেছি ফাল্গুন
পিপাসার ভ্রম নিয়ে মরুভূমি ধুধু
তার চেয়ে ভালো নেই, এক মুঠো ক্ষুধা নেই
এই ফুল সেই ফুল, ভুলে গেছি ফাল্গুন
পিপাসার ভ্রম নিয়ে মরুভূমি ধুধু
শনিবার, ২৫ মে, ২০১৩
বিভ্রান্ত বেড়াল
একটা বেড়ালের চোখে চোখ পরে গেলো
যে, নিঃশব্দ আমাকে অনুসরন করছিলো
তাই দেখে আমিও শব্দ করে ফেলি বেড়ালের-ই সুরে
কি আশ্চর্য রকম বেড়ালের মতই আমার স্বর
বিভ্রান্ত বেড়াল
আমাকে বিভ্রান্ত করে দীর্ঘক্ষণ
সেই কথপোকথন চালিয়ে গেলো
তাই দেখে আমিও শব্দ করে ফেলি বেড়ালের-ই সুরে
কি আশ্চর্য রকম বেড়ালের মতই আমার স্বর
বিভ্রান্ত বেড়াল
আমাকে বিভ্রান্ত করে দীর্ঘক্ষণ
সেই কথপোকথন চালিয়ে গেলো
রবিবার, ১৯ মে, ২০১৩
কালো কবিতা-৫৭
বলেছিলে কবিতার একটা যাদুকরী গুন আছে
এরা রাত্রের স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়
আমি দীর্ঘ রাত গুলো যাদু দেখবার আশায় আশায় কাটিয়ে দিয়েছে
নিষ্পাপ কবিতারা রাত্রির বয়েস চুরি করেনি
স্বর্গের মত অন্ধকারের ভিতর আমাকে ঢুকিয়ে দিয়েছে
তার পর থেকে আমি আর দিন দেখিনি
বুধবার, ১৫ মে, ২০১৩
তুমি-৪৫
তুমি যখন আমার সবুজ ব্যাথাটাকে উস্কে দেও
ওটা তখন এতো তীব্র লাল হয়ে যায় যে
রক্তজবা তোমার খোপায় বসে লজ্জায় মরে
সেও তখন ঘাস হতে চায় তোমার পায়ের তলের
যতবার তুমি এইভাবে হৃদয় মাড়িয়ে যাও
ততবার আমার সবুজ ব্যাথাটা প্রেম হয়ে যায়
রক্তজবা তোমার খোপায় বসে লজ্জায় মরে
সেও তখন ঘাস হতে চায় তোমার পায়ের তলের
যতবার তুমি এইভাবে হৃদয় মাড়িয়ে যাও
ততবার আমার সবুজ ব্যাথাটা প্রেম হয়ে যায়
কালো কবিতা-৫৬
ঠিক আছে, আমি আর জন্ম নবো না
তার পরিবর্তে একটা অন্ধকার কবিতা লিখে রাখবেন
হারিয়ে যাওয়া কলমের কালি আর বিষন্ন কাগজ
একটা রাত্রিকে ধারন করুক
যদিও বা কেউ পড়বেনা
যদিও বা কাগজে সূর্য আঁকা থাকবেনা
কালো কবিতা কেউ পড়বে না
ঠিক আছে, আমি আর জন্ম নেবো না
বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩
বাচাল
একদিন আমিও কথা বলবো না আর
একটা বাচাল হারিয়ে যাবে অচল সময়ে
সীমাহীন নিস্তব্ধতা তুমি পেয়ে যাবে
আর স্বস্তির নিঃশ্বাস জুড়ে কিছু কি অস্বস্তি .........
তার পর তুমিও চিৎকার করে উঠতে পারো
তারপর ভেঙ্গে যাবে নিরব পাহাড়
তারপর তুমিও বাচাল হবে
একদিন আপনিও বাচাল হবেন
বুধবার, ৮ মে, ২০১৩
কেউ একজন
উৎসবে যারা মেতেছে উচ্চস্বরে,তারা কি জানে, কেউ একজন একা?সব হারানোর মিছিলে দাঁড়িয়ে আজনিজের সাথেই নিজের হয় না দেখা।
নিভে আসে রোজ চেনা দুনিয়ার আলো,স্তব্ধ প্রদীপ জ্বালাচ্ছে স্মৃতির ঘর;চৈত্রের মাসের আগুনেও শীত হিম—নিজের কাছেও আমি তো অনেক পর।
আড়ালে লুকাই দীর্ঘশ্বাস-হাহুতাশ,একাকীত্বের ধূসর দুনিয়া বানাই;অচেনা ভিড়েও নিজের ছায়া খুঁজি—মনটাকে শুধু আশাবাদী গান শোনাই।
হারিয়েছি আমি আপন চেনা সে নাম,শুকনো পাতায় মরমর স্মৃতি জপি;এলোমেলো পথ কোন ঠিকানার টানে—নিজেকেই আজ গোপনে দিয়েছি সঁপি।
©রি হোসাইন
উৎসবে যারা মেতেছে উচ্চস্বরে,
তারা কি জানে, কেউ একজন একা?
সব হারানোর মিছিলে দাঁড়িয়ে আজ
নিজের সাথেই নিজের হয় না দেখা।
নিভে আসে রোজ চেনা দুনিয়ার আলো,
স্তব্ধ প্রদীপ জ্বালাচ্ছে স্মৃতির ঘর;
চৈত্রের মাসের আগুনেও শীত হিম—
নিজের কাছেও আমি তো অনেক পর।
আড়ালে লুকাই দীর্ঘশ্বাস-হাহুতাশ,
একাকীত্বের ধূসর দুনিয়া বানাই;
অচেনা ভিড়েও নিজের ছায়া খুঁজি—
মনটাকে শুধু আশাবাদী গান শোনাই।
হারিয়েছি আমি আপন চেনা সে নাম,
শুকনো পাতায় মরমর স্মৃতি জপি;
এলোমেলো পথ কোন ঠিকানার টানে—
নিজেকেই আজ গোপনে দিয়েছি সঁপি।
©রি হোসাইন
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)