রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
জুতা
দুর্বৃত্ত
যখন
তোমার কথায় আমার মুখ ভরে থুতু আসে
অথবা বমি পায়
তখন তুমি মুখ বন্ধ না রাখলেও
আমাকে তো আমার মুখ বন্ধ রাখতেই হয়
যখন,
তোমার জন্য আর কোন শ্রদ্ধা নেই
ভক্তি নেই...
তবে তো বিভক্তিই ভালো
তবুও তুমি দখল নিতে চাও আমার সংসার
আমার গ্রীবা কিংবা যোনী
আমাকে তো আমার মুখ বন্ধ রাখতেই হয়
তোমার লকলকে জিভের দম্ভে
তোমার হাঁ করা মুখের গন্ধে
আমি নাক-মুখ চেপে রাখি
আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হতে থাকে
তারপরও
তুমি আমার বুকের পাঁজরের সমান্তরালে
দ্রুতগামী রেলগাড়ি ছোটাও
রি হোসাইন
প্রজাপতি নদীর গল্প
আমি ঠিক প্রজাপতি হতে চেয়েছি
তারপর তোমার শরীরের; চুলে, হাতে, ঠোঁটে অথবা গ্রীবায়
কোথায় বসবো সেই দ্বিধায়
একজন্ম প্রেমকাল চলে যায়.....
আবার জন্মে-
আমি আবার প্রজাপতি হতে চেয়েছি
এই ভাবে আমার সার্থক প্রেম গুলো
আজন্ম প্রবাহিত বয়ে যায়.....
প্রতিবার আমি প্রজাপতির বদলে নদী হয়ে জন্মাই!
চড়ুই পাখিদের রূপকথা
বারান্দাতে চড়ুই পাখিদের বাসা,
রোদ পোহানো দুপুরের ভালোবাসা।
কিচিরমিচির গন্ধেতে ঘর ঠাসা,
চোখের দ্বিধায় সাবলীল প্রত্যাশা।
শিখিয়ে দিলো উজাড় আলিঙ্গন,
যাপনে বিষণ্ণতার উদযাপন।
ইতিহাস ছিঁড়ে রূপকথা আয়োজন—
ভেসে গেল এই দুঃখিত পার্বন।
কবস্থান রোড
বনানীতে
সিজদাহ্ (ছোট গল্প)
© রি হোসাইন
খারাপ দুপুর
নিয়ন্ত্রণ
জন্ম, যুদ্ধ আর প্রেমের গল্প
রোগাক্রান্ত
ভেজিটেরিয়ান
মাতাল ওড়াউড়ি
তোমাকে সামনে পেলে
অবসান
এরপর একদিন অপেক্ষার অবসান হলো
আমাদের দেখা হলো
তুমি জানলেই না, অথবা আমিও জানলাম না
কিংবা দুজনের কেউই না।
কিন্তু বারবার মনে হলো; যাক দেখাতো হয়েই গেলো ...
আর জ্যামিতি শাস্ত্র তুচ্ছ করে
দুটি সমান্তরাল রেখা পরস্পরকে ছেদ করে চলে গেলো।
কেউ জানুক আর না জানুক
একে অপরের অপক্ষের অবসান হলো
আমাদের পরিচয় জমা রাখা মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলো
বহুদুরে উড়ে গেলো প্রজাপতি হয়ে
এ যেনো একটা নিরাপরাধবোধ অনুভূতি, শিশুর পাপের মতো
এরপর একদিন দুজনার উচ্ছ্বাসিত হেঁটে চলা পথে
যখন আর কেউ কারো পথ চেয়ে নেই
দেখা হলো কিনা হয়ে যাবে; কে জানে!
এখন আর আমরা তো পরিচিত নই.....
অপেক্ষা
দেখা হবার অপেক্ষাতে যাপন আমার.....
একদিন দেখাতো হবেই
তারপর একদিন দেখা হবে
কিন্তু;
কেউ কারো কুশল জানতে চাইবো না,
যেনো প্রতিবেশী; প্রতিদিন আমাদের দেখা হয়.....
কোন উত্তাপ থাকবে না
কেবল দেখাই হবে, কিন্তু; কথা হবে না
দুজন চলে যাবো, না দেখার ভান করে
যেমনটা হয় দুজন ইর্ষাকাতর প্রতিদ্বন্দীর ভিতরে।
দুর্বোধ্য অপরাধবোধে আমাদের চোখ
চোখাচোখি হতে আসহায় বোধ করে
অথচ দেখা হবে
একদিন দেখাতো হবেই
হয়তো; দেখা না হওয়ার মত করে!
পুনর্জন্ম
চলো নতুন করে জন্মাই
নতুন করে হাটি, বসি, দৌড়াই
নতুন উচ্চারণে হাসি
যখন শব্দের অস্তিত্ব ছিলো না
তখন যেভাবে কথা বলা হতো
চলো সে ভাষায় কথা বলি....
অন্যরকম যৌবনে এসো
অদ্ভুত ভালোবাসা বাসি
তারপর..
চলো সৃষ্টি করি নতুন অভিধান..
নতুন বসন্ত আর বর্ষার সংবিধান
চলো গড়ে ফেলি প্রেম,
প্রেম আর প্রেম
তারপর.....
সৃষ্টি করি নতুন এক প্রাগৈতিহাসিক প্রজন্ম।
চলো, ভুলে যাই বর্তমান, অতীত এবং সবকিছুই,
কিংবা মরে যাই
তারপর...
চলো নতুন করে জন্মাই.....