কী অদ্ভুত সব জুতা...
কোনোটা পায়ের চেয়েও বড়,
কোনোটা পায়ের চেয়েও সুন্দর।
অনেক সমৃদ্ধ পা দেখি ছেঁড়া জুতায়,
অনেক সুন্দর পা দেখি জুতা ছাড়াই।
হতাশার জুতা দেখি,
কোনোটা আবার গর্বিত পরিপাটি।
রাজকন্যার হাইহিল দেখি,
বাবার ক্ষয়ে যাওয়া মলিন চটি...
ছেলেটার কেডস কতই-না ব্যস্ত!
মায়েদেরগুলো খুব দুর্লভ হয়—
শুনেছি সেখানেই থাকে বেহেশত।
কোনো দিন কালি না করা
ভাঁজ পড়া ময়লা জুতা,
যেখানে গুঁজে রাখা আছে
পরাজিত জনের হাজার দুঃখের কথা।
আত্মহত্যার পথে হেঁটে চলা এলোমেলো নগ্ন পা—
দেখি শ্রমিকের গোড়ালি ফাটা পায়ের বিষণ্ন চিত্রকর্ম আঁকা।
প্রেমিক প্রেমিকার স্বপ্নিল পথচলা দেখি,
বরের নাগরার ভেতর কী উচ্ছ্বাস,
শুরু হয় নতুন জীবন...
তারপর... শিশুদের ঈদের নিষ্পাপ জুতা;
কী সুন্দর উৎসবের ঘ্রাণ!
খুব অবাক হয়ে দেখি,
খেলোয়াড়ের বৃদ্ধাঙ্গুল ছেঁড়া জুতা,
দেশকে উজাড় করে দেওয়া
কী প্রাণপণ নৈপুণ্যতা...
ভয়ধরা থপ থপ হিংস্র বুটের উদ্ধত তাণ্ডব,
ফেরারি গণতন্ত্রীর পলাতক জবুথবু জুতা,
আমলার ঝা চকচকে আয়নার মতো—
দেখি প্রেসিডেন্টের ভাবলেশহীন জুতা,
যেমন দেখি দম্ভের...
আবার দেখি
শত সেলাইয়ের... আর ছেঁড়া ফিতা।
অত্যাচারীর জুতার পাশেই
দেখি নিপীড়িতের নির্জীব জুতা।
দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে যাই,
তবু সবার পায়ের দিকে তাকাই—
তীব্র আকাঙ্ক্ষার চোখ খুঁজে বেড়ায়
এমন একটা জুতা...
সেটা হলো,
শূন্যে ছুড়ে দেওয়া বিদ্রোহের জুতা।
© রি হোসাইন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন