বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
নেতানিয়াহুর বাঁশি
পুরুষ
চাঁদ যখন তার পুড়ে যাওয়ার হৃদয় খুলে
তখন তুমি উপভোগ করো স্নিগ্ধ আলো
ড্রাকুলা
ঈদ-উল-ফিতর
প্যালেস্টাইনের যেই শিশুটির সবকিছু কেড়ে নিয়েছিলো
বাড়ি
নিখোঁজ
যাদেরকে পাওয়া যায়নি
যাদেরকে পাওয়া যাবেনা
এমনকি লাশও না
শার্টের একটা বোতামের আধপোড়া অংশ ছাড়া
একটা ভ্যানের জ্বলে যাওয়া স্পোকের শেষাংশে
আর কিছু মিলে না
এমনকি গায়ের গন্ধও না
যাদেরকে পাওয়া যায়নি
যেনো চেটেপুটে খেয়ে, পালিয়েছে পিশাচিনী
❑
কৌতুক
এক পকেট বিক্ষোভ নিয়ে
অনুমতির অপেক্ষায়…
বসে আছি
সাজানো বুট থপথপে চেয়ে আছে,
জড়ো করে রাখা রাইফেল,
বুলেটের ভাণ্ডার যার পাশেই,
যেখানে রক্ত, বমি আর পায়খানা
আর, এক কলম বিদ্রোহ নিয়ে
আমি মিনমিন করে কবিতা লিখি
আমি জানি না
কবিতা লেখার অধিকার
আমাকে কে দিয়েছে?
❑
হে, খায়রুল হক
আ-ত্মহ-ত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আমার বিচার হবে
হোক!
হে বিচারপতি, তবুও তোমার নিজের হাতেই
তোমার বিচার হোক
তুমি আমার ভোটের অধিকার হ-ত্যা করেছো
তোমার নিজের হাতেই তোমার ফাঁ-সি হোক
তুমি ঝুলে পড়ো নায়লনের দড়িতে
ফাঁ-স নাও বেডরুমের ফ্যানে ঝুলে
না, না, বাথরুমের শাওয়ারে
তোমার মৃ-ত্যু হোক সর্বোচ্চ অসম্মানে…
তোমার প্রতি কোন সম্মান অবশিষ্ট নেই
কোন নাগরিক, কবি, ডাক্তার, মাওলানা, হকার কিংবা বেশ্যা
তোমার প্রতি সম্মান নেই কারোই…
এক ফোঁটাও
এমনকি ক্যান্টনমেন্টের দেয়ালে যেখানে পেচ্ছাব করে মানুষ
সেখানেও কেবল তোমার নামে ঘৃণা ছাড়া কিছু নেই
হে, খায়রুল হক,
আমি তোমাকে আ-ত্মহ-ত্যার পরামর্শ দেবো
হে অমানুষ বিচারক
আমি তোমার ফাঁ-সির রায় দেবার হক
তোমাকেই দেবো, তারপর
আ-ত্ম-হ-ত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আমার বিচার হবে
হোক!
আগামীকাল ৩৬জুলাই তোমার পতন হবে
আগামীকাল ৩৬এ জুলাই ……
তোমার সাথে আমার দেখা হবে…
সামনাসামনি…..
সকল ব্যারিকেড, কার্ফিউ আর
তোমার মাস্তানদের রক্তপিপাসা মিটিয়ে দিয়ে হলেও
পুলিশের ফ্যাকাশে পোশাক রঙ্গিন হয়ে যাবে তবুও
তোমার সাথে আমার দেখা হবে…
হবেই ….
একদম সামনাসামনি…..
তুমি নিশ্চিত থাকো, আমি তোমাকে হত্যা করবো না,
আমি রক্তলিপ্সু নই …
কোন প্রশ্নও করবো না
তোমার সমস্ত উত্তর বুলেটের বারুদে ভরে
তুমিতো আগেই দিয়েছো …
এমনকি, তোমাকে কান্নার সুযোগও দেবো না…
তোমার কান্নার অভিনয়ে কুমিরেরাও যে লজ্জা পেয়ে যায়
তারপর
তোমার মিথ্যার পাহাড়
আমার চোখের আগুনে ছাই হয়ে যাবে
তোমার চকচকে জিভের বিষ
আমার নি:শ্বাসের ঝড়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে
আমার রক্তের স্রোতে
তোমার পায়ের তলার মাটি ভেসে যাবে
আমার সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে তুমি
তোমার তন্ত্রমন্ত্রের সকল খেলা শেষ হয়ে যাবে
আগামীকাল ৩৬এ জুলাই
তোমার পতন হবে….. চুড়ান্ত পতন
আগামীকাল আমি তোমার সামনাসামনি
সিনা টান টান করে দাঁড়াবো যখন…
তুমি লজ্জায় পড়ে যাবে!
উত্তর
তীব্র নিন্দার খেলা
আমি মরছি...
শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫
জলবায়ু
এই জলবায়ু, এ কঠিন ঋতুচক্র আমার,
বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
অগ্নিকাণ্ডের পরে...
তারপর তুমি নিজেই স্বীকার করে নেবে
কুরসিটা বৈধ ছিলো না!!!
আমানউল্লাহ আমান
আমি রোপন করি বিশ্বাস,
জন্মাই মেহনতী বৃক্ষের চারা
আমার নখের সামর্থ্য তুমি রাখো না
আর তাই উপড়ে ফেলো নখ
আর তাই ভয় পাও দুর্ব্বা ঘাস
নেশা
আমার যখন গাড়ি কেনার নেশা পায়
কিন্তু পকেটে, ব্যাঙ্কে, আলমিরাতেও টাকা নাই
আমি জনে জনে টাকা চাই
ধার না- পাওনা টাকা,
অনুনয়-বিনয় করি, হাত কচলাই
এই দিকে দুনিয়া ভরা বিপ্লব
ব্যবসা চলে না, রফতানি অর্ডার নাই
রিজার্ভে ডলার নাই
মোদ্দা কথা আমার টাকা আমার পকেটে নাই....
তবুও আমার গাড়ি কেনার নেশা পায়...
যদিও আমার ড্রাইভার নাই.....
আমার ভাঙাচোরা প্রিয়তমাকে আমিই চালাই
চলেও দারুণ
চালানোর সময় মনে হয়
এর থেকে মজা আর কিছুতেই নাই
তবুও আমার অন্য গাড়ি কেনার নেশা পায়
পরকীয়ার নেশার মতো....
একদিকে টাকা নাই,
অথবা, ঠিক তা নয়...
আসলে নিজের টাকা নিজের কাছে নাই
ঐদিকে এই যে আমার টাকা
তার ভবিষ্যৎ নিয়েও আমি চিন্তিত
আমার মহান সহকর্মীরা তাদের স্বচ্ছতা
কোথাও যেনো বর্গা দিয়েছেন
রক্তসম্পর্কীয়রা
তাদেরও চোখ যেনো লোলুপ আর হিংস্র
আমার সন্তান,
সুশিক্ষা ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ তাদের দিতে আগ্রহী নই
আমি আমার টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত
যেটা এখন আমার কাছে নাই
হয়তোবা আর ফিরবেও না
তবুও আমার গাড়ি কেনার নেশা পায়
আমার কোনো ড্রাইভার নাই
আমার ভাঙাচোরা প্রিয়তমাকে আমিই চালাই
রংপুর
হে শহর,
বহুকাল যাবত মহানগর হতে হতেও
মফস্বলই থেকে যাওয়া,
হে কালোধোয়াহীন সুপেয় শহর,
শয়তান আর পরীদের পরকীয়া করা হে,
মুক্তির সুইচ অন করে দেয়া
মৃত্যুকে আপন করা মাটি,
শ্যামাসুন্দরীর আত্মহত্যা করা জনপদ,
হে সরল... আমাকে মুক্তি দাও...
একটা যাযাবর যৌবন তোমাকে দিয়ে
তোমার সমস্ত উর্বরতা আমি চুরি করে নিয়ে এসেছি,
থোকা থোকা কুয়াশা ভেদ করা আমার চোখ
ফেরাবেনা দৃষ্টি,
হে বিষন্ন রোদের শহর,
আমি আর ফিরবো না জেনেও
তুমি তাকিয়ে থাকো।
হে শরৎকাল,
আমাকে ক্ষমা করে দাও,
তারপর আবার
তুমি ভালো থাকো...।
মানচিত্র
গলির মাথায় একটা সেলুন ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়ার পর
এটা এখন একটা বিস্কুটের দোকান
তাই নিয়ে দ্বন্দ্ব,
অথচ, এতদিন এখানে নজর ছিল না কারোই
দুই দল কুকুর সীমান্তযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে
দোকানটির পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে
পেচ্ছাব করে যায় এক কুকুর নেতা,
ওমনি সীমানা তার দলের
অপর দলের নেতা কুকুরটিও
পেচ্ছাব করে দিলো দোকানের দেয়ালে,
কখনো দোকান বন্ধ হলে
পেচ্ছাব করার প্রতিযোগিতা চলে দোকানের সাটারে
কুকুরের মানচিত্র খুবই ছোট
পাড়ায় একটা ছোট্ট গলিও
মাঝে মাঝে ভাগ হয়ে যায়
পেচ্ছাব করে করে এরা সীমানা গড়ে,
সীমানা বাড়ায়
স্বাধীন কুকুরেরা বন্দী হয়ে যায়
তাদের পেচ্ছাবের মানচিত্রে
তারপর চলে দিনভর যুদ্ধ,
পেচ্ছাবের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, দাবি-দাওয়া
এক দল খুবলে নেয় আরেক দলের মাংসপিণ্ড
কুকুরের ক্ষতে সংক্রমিত হয় পাড়া,
জন্ডিস হয়, হাঁপানি আর কারো কারো হয় কলেরা
বিস্কুটের দোকানে জমজমাট ব্যবসা চলে
কুকুরের পেচ্ছাবের গন্ধে হয়তো চায়েরও স্বাদ বাড়ে...
ভয়!
খুব ভোর বেলায়, স্বপ্নে
দেখা হলো ইমতিয়াজ মাহমুদ
শেখ মুজিবের আকাশটা হাতে নিয়ে
একটা পাখি খুঁজে বেড়াচ্ছে....!!!
কোন পাখিই সেখানে উড়ছেনা
ভয় পেয়ে আমার চড়ুই পাখিরাও
বুক পকেটে লুকাচ্ছে!!!
ঝাপটা বাতাসের গান
আমি যে সহজ ভাষায় কথা বলি
তুমি বোঝ না!
অথচ একটা শামুকও
অভেদ্য পূর্ণিমা ছেদ করে এইখানে আসে...
যার সাথে বর্ষার বোঝাপড়া বেশ
এইটা সে বোঝে, অনুরূপ নিশ্বাসে
ঝাপটা বাতাসের গান সেও গায়
আমাকে শোনায়
শুনতে কি পাও
বদলে যাওয়া ভাষায়
অন্ধকার পূর্ণিমা কি ডাক দিয়ে যায়?