বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
আমাকে অনেক কিছু করতে হবে
আমাকে শোকে ধরেছে
তবু আমাদের মাথা উঁচু হোক
মানুষেরা আমাকে প্রত্যাশা করেনা
রংপুর
হে শহর,
শিক্ষক (ছোট গল্প)
আমাকে সবচেয়ে বেশি শিখিয়েছে রাস্তার একটা আহত বিড়াল, যার আস্ত ঘাড়টাই খুবলে নিয়েছিল রাস্তারই আরেকটা কুকুর। বিড়ালটির বয়স তখন অনুমানিক ৬ মাস... রাস্তার ছেলেরা সেই অবস্থায় বিড়ালটির সাথে নিষ্ঠুর খেলা খেলছিল। আমি তাকে সাহায্য করতে গিয়েও করতে পারিনি। বিড়ালটি আমার সাহায্য নেয়নি। এমনকি কারোই সাহায্য নেয়নি। আমরা সবাই ভেবেছি, এ বিড়াল বাঁচবে না... এরকম হলে বাঁচার কথা নয়। তারপরও দিনের পর দিন দগদগে ঘাড় নিয়ে... কতবার আমরা খাবার দিয়েছি... খায়নি... আমরা সবাই ভেবেছি, এ বিড়াল বাঁচবে না।
ইচ্ছা
আমারে খোদায় ক্ষমতা দিলে কোটি বার জন্মিবার
ঈগল, সিংহ, তিমি মাছ আর প্রজপতি রুপকথার
ফিরিয়ে দিয়ে বলতাম খোদা কবুল করো মোরে
বারিস্তা
ট্রাক-সেল
নেতানিয়াহুর বাঁশি
পুরুষ
চাঁদ যখন তার পুড়ে যাওয়ার হৃদয় খুলে
তখন তুমি উপভোগ করো স্নিগ্ধ আলো
ড্রাকুলা
ঈদ-উল-ফিতর
প্যালেস্টাইনের যেই শিশুটির সবকিছু কেড়ে নিয়েছিলো
বাড়ি
নিখোঁজ
যাদেরকে পাওয়া যায়নি
যাদেরকে পাওয়া যাবেনা
এমনকি লাশও না
শার্টের একটা বোতামের আধপোড়া অংশ ছাড়া
একটা ভ্যানের জ্বলে যাওয়া স্পোকের শেষাংশে
আর কিছু মিলে না
এমনকি গায়ের গন্ধও না
যাদেরকে পাওয়া যায়নি
যেনো চেটেপুটে খেয়ে, পালিয়েছে পিশাচিনী
❑
কৌতুক
এক পকেট বিক্ষোভ নিয়ে
অনুমতির অপেক্ষায়…
বসে আছি
সাজানো বুট থপথপে চেয়ে আছে,
জড়ো করে রাখা রাইফেল,
বুলেটের ভাণ্ডার যার পাশেই,
যেখানে রক্ত, বমি আর পায়খানা
আর, এক কলম বিদ্রোহ নিয়ে
আমি মিনমিন করে কবিতা লিখি
আমি জানি না
কবিতা লেখার অধিকার
আমাকে কে দিয়েছে?
❑
হে, খায়রুল হক
আ-ত্মহ-ত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আমার বিচার হবে
হোক!
হে বিচারপতি, তবুও তোমার নিজের হাতেই
তোমার বিচার হোক
তুমি আমার ভোটের অধিকার হ-ত্যা করেছো
তোমার নিজের হাতেই তোমার ফাঁ-সি হোক
তুমি ঝুলে পড়ো নায়লনের দড়িতে
ফাঁ-স নাও বেডরুমের ফ্যানে ঝুলে
না, না, বাথরুমের শাওয়ারে
তোমার মৃ-ত্যু হোক সর্বোচ্চ অসম্মানে…
তোমার প্রতি কোন সম্মান অবশিষ্ট নেই
কোন নাগরিক, কবি, ডাক্তার, মাওলানা, হকার কিংবা বেশ্যা
তোমার প্রতি সম্মান নেই কারোই…
এক ফোঁটাও
এমনকি ক্যান্টনমেন্টের দেয়ালে যেখানে পেচ্ছাব করে মানুষ
সেখানেও কেবল তোমার নামে ঘৃণা ছাড়া কিছু নেই
হে, খায়রুল হক,
আমি তোমাকে আ-ত্মহ-ত্যার পরামর্শ দেবো
হে অমানুষ বিচারক
আমি তোমার ফাঁ-সির রায় দেবার হক
তোমাকেই দেবো, তারপর
আ-ত্ম-হ-ত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আমার বিচার হবে
হোক!
আগামীকাল ৩৬জুলাই তোমার পতন হবে
আগামীকাল ৩৬এ জুলাই ……
তোমার সাথে আমার দেখা হবে…
সামনাসামনি…..
সকল ব্যারিকেড, কার্ফিউ আর
তোমার মাস্তানদের রক্তপিপাসা মিটিয়ে দিয়ে হলেও
পুলিশের ফ্যাকাশে পোশাক রঙ্গিন হয়ে যাবে তবুও
তোমার সাথে আমার দেখা হবে…
হবেই ….
একদম সামনাসামনি…..
তুমি নিশ্চিত থাকো, আমি তোমাকে হত্যা করবো না,
আমি রক্তলিপ্সু নই …
কোন প্রশ্নও করবো না
তোমার সমস্ত উত্তর বুলেটের বারুদে ভরে
তুমিতো আগেই দিয়েছো …
এমনকি, তোমাকে কান্নার সুযোগও দেবো না…
তোমার কান্নার অভিনয়ে কুমিরেরাও যে লজ্জা পেয়ে যায়
তারপর
তোমার মিথ্যার পাহাড়
আমার চোখের আগুনে ছাই হয়ে যাবে
তোমার চকচকে জিভের বিষ
আমার নি:শ্বাসের ঝড়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে
আমার রক্তের স্রোতে
তোমার পায়ের তলার মাটি ভেসে যাবে
আমার সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে তুমি
তোমার তন্ত্রমন্ত্রের সকল খেলা শেষ হয়ে যাবে
আগামীকাল ৩৬এ জুলাই
তোমার পতন হবে….. চুড়ান্ত পতন
আগামীকাল আমি তোমার সামনাসামনি
সিনা টান টান করে দাঁড়াবো যখন…
তুমি লজ্জায় পড়ে যাবে!
উত্তর
তীব্র নিন্দার খেলা
আমি মরছি...