বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

আমাকে অনেক কিছু করতে হবে

 এখনো আমার চোখে ঘুম নেই

আমি ঘুমিয়ে পড়লে যদি ফিরে আসে ফ্যাসিস্ট
লুট করে নেয় আমাদের স্বপ্ন
ওদের চেষ্টা তো থেমে নেই
এখনো আমার ঘুম নেই
আমার সময় থমকে গেছে
আমাকে অনেক কিছু করতে হবে
ভোরের সূর্যটার সাথে খেলতে হবে
দুপুর বানাতে, বিকেল আঁকতে হবে
আর রাতের আয়োজনগুলো ছড়িয়ে দেবো
প্রতিটি স্বপ্নবাজের চোখের ভিতরে
আমাকে অনেক কিছু করতে হবে
সাঈদের বুক থেকে বুলেট বের করতে হবে
মুগ্ধর পানির বোতল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হবে চতুর্দিক
সঞ্জীবনী ফোঁটায় আজীবনের তৃষ্ণা মিটে যাবে
বাংলাদেশের
আমাকে অনেক পথ যেতে হবে
প্রতিটা বুলেটের হিসেব নিতে হবে
প্রতিটা অশ্রুর জবাব
প্রতিটা কান্নার ভিতরের হাহাকার ফিরিয়ে দিতে হবে
এখনো আমার ঘুম নেই
তারপর,
আমাকে উঠতে হবে নতুন উচ্চতায়
যেন হিমালয়ও খুব ছোট দেখায়
আমার মানবিক বোধ আর বৈষম্যহীন যাত্রায়
হাতে হাত রাখবে বাংলাদেশ অবলীলায়
©রি হোসাইন

আমাকে শোকে ধরেছে

আমাকে শোকে ধরেছে
তীব্র শোকে আমি নুয়ে পড়েছি
আমার নিশ্চল পা,
আমার ঝাপসা দৃষ্টিসীমায়
টকটকে লাল পিচঢালা পথ আর ফুটপাত
কিন্তু আমার শ্রবণশক্তি বেড়ে গিয়েছে
অজস্র চিৎকার আর হাহাকারে
আমি যুদ্ধক্লান্তের মতো বিষণ্ন
সতেরশো লাশের বিনিময়ে
আমার রক্তিম বিজয় উদযাপন
এখনো ফুরিয়ে যায়নি
এ বিজয় বহু দাম নিয়েছে
সতেরো লাশের শোক
সাঈদের শোক, মুগ্ধের শোক
আমাকে শোকে ধরেছে

তবু আমাদের মাথা উঁচু হোক 

মানুষেরা আমাকে প্রত্যাশা করেনা



মানুষেরা আমাকে প্রত্যাশা করে না
আমার উচ্চারণ হয়তো চমকপ্রদ নয়
আমার স্থুলকায় শরীরের জন্য
স্থান সংকুলান হয় না অনেক সভায়
মানুষেরা আমাকে প্রত্যাশা করে না
আমার নিমন্ত্রণের দিনে তাদের অনেক ব্যস্ততা
তারা উৎসব আর আয়োজনে ভরা থাকে
সম্ভবত আমার ভালোবাসা পর্যাপ্ত নয় এসব থেকে
ভালোবাসা ভাগ হয়ে যেতে পারে,
সে উৎকণ্ঠায় আমার ছাদও ভারি হয়ে থাকে
এইসব বাদ দিয়ে
যখন বারান্দায় যাই
আমাকে ঘিরে ধরে একঝাঁক চড়ুই
কতদিন দেখে না আমায়
কত ডাকে আসি না আমি
এইসব শোনায়
ঘর থেকে বের হতে রাস্তায়
কুকুর দম্পতি ছুটে এসে জানায়
চারপাশ জুড়ে আছে আমার অপেক্ষায়
শহুরে চাতক খুঁজে গেছে কয়েকবার
বহুদূর থেকে দোয়েলও এসেছিলো
টিয়া পাখি ঝাঁক নিয়ে উড়ে যায় প্রতিদিন
কাকের বাসা বেড়েছে আম গাছের ডানায়
ডাস্টবিনের কোনায় যে বিড়াল থাকে
কত শত লাথি আর দৌড়ানি জমিয়েছে পশমে
এবার আদর দিতে হবে তাকে
মানুষেরা আমাকে প্রত্যাশা করে না
আমাকে প্রয়োজন নেই তাদের কারোই
আমাকে প্রত্যাশা করে কেবল কুকুর, বিড়াল, চড়ুই
```
©রি হোসাইন

রংপুর

 হে শহর,

বহুকাল যাবত মহানগর হতে হতেও
মফস্বলই থেকে যাওয়া,
হে কালোধোয়াহীন সুপেয় শহর,
শয়তান আর পরীদের পরকীয়া করা হে,
মুক্তির সুইচ অন করে দেয়া
মৃত্যুকে আপন করা মাটি,
শ্যামাসুন্দরীর আত্মহত্যা করা জনপদ,
হে সরল... আমাকে মুক্তি দাও...
একটা যাযাবর যৌবন তোমাকে দিয়ে
তোমার সমস্ত উর্বরতা আমি চুরি করে নিয়ে এসেছি,
থোকা থোকা কুয়াশা ভেদ করা আমার চোখ
ফেরাবেনা দৃষ্টি,
হে বিষন্ন রোদের শহর,
আমি আর ফিরবো না জেনেও
তুমি তাকিয়ে থাকো।
হে শরৎকাল,
আমাকে ক্ষমা করে দাও,
তারপর আবার
তুমি ভালো থাকো...।
© রি হোসাইন

শিক্ষক (ছোট গল্প)

আমাকে সবচেয়ে বেশি শিখিয়েছে রাস্তার একটা আহত বিড়াল, যার আস্ত ঘাড়টাই খুবলে নিয়েছিল রাস্তারই আরেকটা কুকুর। বিড়ালটির বয়স তখন অনুমানিক ৬ মাস... রাস্তার ছেলেরা সেই অবস্থায় বিড়ালটির সাথে নিষ্ঠুর খেলা খেলছিল। আমি তাকে সাহায্য করতে গিয়েও করতে পারিনি। বিড়ালটি আমার সাহায্য নেয়নি। এমনকি কারোই সাহায্য নেয়নি। আমরা সবাই ভেবেছি, এ বিড়াল বাঁচবে না... এরকম হলে বাঁচার কথা নয়। তারপরও দিনের পর দিন দগদগে ঘাড় নিয়ে... কতবার আমরা খাবার দিয়েছি... খায়নি... আমরা সবাই ভেবেছি, এ বিড়াল বাঁচবে না।

তিন বছর পর্যন্ত ঘাড়ে দগদগে ঘা... তারপরেও রুগ্ন বিড়াল ছুটে বেড়িয়েছে... ইঁদুর ধরেছে... সাড়ে তিন বছর পর থেকে ঘা নেই... শুকিয়ে গেছে... এখন স্বাস্থ্যও হয়েছে...
ওর ঘাড় খুবলে নেওয়া কুকুরটির সাথে এখনো তাকে দেখা যায়... অসহায় নয়... সমতায়...
রাস্তার সেই বিড়ালটিই আমার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক...!!! যে এখনো আমার দেওয়া খাবার খায় না।
© রি হোসাইন

ইচ্ছা


আমারে খোদায় ক্ষমতা দিলে কোটি বার জন্মিবার

ঈগল, সিংহ, তিমি মাছ আর প্রজপতি রুপকথার


ফিরিয়ে দিয়ে বলতাম খোদা কবুল করো মোরে

একবার শুধু জন্মাতে চাই হয়ে এক আববার

বারিস্তা



কবিতা না লেখার মত সন্ধ্যায়
অনর্থক অর্থবহ শব্দের ভিড় ঠেলে
চোখাচোখি টেবিলে;
আমরা যেখানে বসি
চিনি ছাড়া কালো কফি
নি:সঙ্গতার ধোঁয়া উড়ায়
বিষাদ চুমুকে জীবনের স্বাদ
খুঁজে বেড়ায়



© রি হোসাইন

ট্রাক-সেল




এক ট্রাক বিভিন্ন রকম ক্ষুধা নিয়ে
পেন্টাগন, বার্মিংহাম প্রাসাদের বাইরে
রেড স্কয়ার, শিতামাচি আর গুলশানে
স্বল্পমূল্যে বিক্রি করবো ক্ষুধা
ট্রাকের পিছনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে ইলন মাস্ক,
গৌতম আদানি, বারাক ওবামা
লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে একচোট মারমার কাটকাট
হয়ে যাবে পুতিন আর শি জিনপিং-এর
একটু পিছনে হাসিনার হাত ধরে মোদি
দূর থেকে দৌড়ে আসছে বিশ্ব নেতারা,
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ট্রাম্প, শিনজো আবের আত্মা, সবাই...
জাতিসংঘের মহাসচিব বিভ্রান্ত হয়ে যাবেন
উনি বুঝতে পারবেন না
এই ট্রাক-সেলের বৈধতা দেয়া যায় কিনা....
©রি হোসাইন

নেতানিয়াহুর বাঁশি



নেতানিয়াহুর একটা বাঁশি আছে,
সেটায় যে যাদুকরী সুর ওঠে,
তাতে মুগ্ধ হয়ে যায় ট্রাম্প, মোদি, পুতিন, সিসি,
এমনকি বিন সালমানও।
সম্ভবত বাঁশিটি রোমের সম্রাট নিরোর থেকে পাওয়া।
বাঁশির সুরে হ্যামিলনের শিশুদের মতো,
গাজায় আছড়ে পড়ে লক্ষ লক্ষ বোমা।
পৌরাণিক রোমের মতো ফিলিস্তিন জ্বলে যায়,
কান্না আর হাহাকারের উৎসবে মেতে ওঠে বিশ্ব।
নিন্দার ঝড়, আর লোক হাসানো বিক্ষোভ,
নেতানিয়াহুর বাঁশি কেবল সুর তুলেই যায়।
জাতিসংঘের কাছে বাঁশিটি সাপুড়ের বীণ হয়ে যায়,
আর নেতানিয়াহু সেই বাঁশিটি বাজিয়ে,
জাতিসংঘকে সাপের মতো নাচায়....


©রি হোসাইন

পুরুষ




চাঁদ যখন তার পুড়ে যাওয়ার হৃদয় খুলে

তখন তুমি উপভোগ করো স্নিগ্ধ আলো


তাকেই তুমি পুর্নিমা বলো....

ড্রাকুলা



ই-স-রায়ে-লের নাগরিকেরা,
তোমাদের জন্য আমার মায়া হয়...
দিনের পর দিন,
যেভাবে তোমরা তোমাদের রক্তপিপাসু নেতাদের
সমর্থন করে গেছো, ট্যাক্স দিয়েছো,
এমনকি ভোটও দিয়েছো...
এর অর্থ তোমরাও ওই রক্তই পান করেগেছো...
দিনের পর দিন...
এই জন্যে তোমাদের হৃদয়ও পচে গেছে...
আর তাই,
তোমাদের জন্য আমার মায়া হয়
তোমাদের ড্রাকুলার জীবনের জন্য
আমার সমবেদনা..!!!
তোমাদের অভিশপ্ত যাপনের মুক্তির জন্য
আমার প্রার্থনা...!!!


©রি হোসাইন

ঈদ-উল-ফিতর



প্যালেস্টাইনের যেই শিশুটির সবকিছু কেড়ে নিয়েছিলো

প্রথমে ঘর, তারপর পিতা, তারপর মা এবং ভাইবোন,
যাকে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো রাস্তায়,
সবশেষে জীবনটিও কেড়ে নিয়েছিলো...
সেই শিশুটির আত্মারও আজকে ঈদ, ঈদ-উল-ফিতর!
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তাকে ফিতরা দেয়া যাচ্ছেনা,
যাকাত বরাদ্দ করা যাচ্ছেনা তার জন্য...
না দান, না ছদকা, না উপহার-অনুদান....
কেবল শিশুটির আত্মার-ই আজ ঈদ...
আমাদের নির্জীব রক্তকে,
সে কি সুন্দর লজ্জা উপহার দিলো....

© রি হোসাইন

বাড়ি




শৈশব থেকেই ভ্রাম্যমাণ জীবন যাপন করি,
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন আমাকে শুনতে হতো—
তা হলো, "কোথায় তোমার বাড়ি?"
আমার উত্তর ছিল একেক সময় একেকটা;
কখনো বিক্রমপুর, সান্তাহার,
কখনো শ্রীমঙ্গল অথবা রংপুর।

শৈশব থেকেই ভ্রাম্যমাণ জীবন যাপন করি;
ঠিকানা হারানো এই দীর্ঘ পথ চলায়—
স্টেশন বদলায়, বদলায় আত্মীয়তার রঙ,
বদলে যায় পরিচিত মানুষের মুখ,
মানচিত্রের দাগগুলো ঝাপসা হয়ে আসে।

শুধু বদলায় না চিরচেনা আঁচলের ছায়া,
যেখানে দুচোখ ভরা থাকে ছলছলে মায়া;
সেখানেই আমার আত্মার স্থায়ী ঠিকানা।

মা!
মা যখন যেখানে থাকেন,
আমি সেখানেই বসবাস করি;
মা-ই আমার বাড়ি।

© রি হোসাইন

নিখোঁজ




যাদেরকে পাওয়া যায়নি
যাদেরকে পাওয়া যাবেনা
এমনকি লাশও না
শার্টের একটা বোতামের আধপোড়া অংশ ছাড়া
একটা ভ্যানের জ্বলে যাওয়া স্পোকের শেষাংশে
আর কিছু মিলে না
এমনকি গায়ের গন্ধও না

যাদেরকে পাওয়া যায়নি
যেনো চেটেপুটে খেয়ে, পালিয়েছে পিশাচিনী

রি হোসাইন
❑

৬ই আগস্ট ২০২৪ 

কৌতুক



এক পকেট বিক্ষোভ নিয়ে
অনুমতির অপেক্ষায়…
বসে আছি
সাজানো বুট থপথপে চেয়ে আছে,
জড়ো করে রাখা রাইফেল,
বুলেটের ভাণ্ডার যার পাশেই,
যেখানে রক্ত, বমি আর পায়খানা
তারা আমাকে দেখে হাসছে…

আর, এক কলম বিদ্রোহ নিয়ে
আমি মিনমিন করে কবিতা লিখি
আমি জানি না
কবিতা লেখার অধিকার
আমাকে কে দিয়েছে?

রি হোসাইন
❑

হে, খায়রুল হক



আ-ত্মহ-ত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আমার বিচার হবে
হোক!
হে বিচারপতি, তবুও তোমার নিজের হাতেই
তোমার বিচার হোক
তুমি আমার ভোটের অধিকার হ-ত্যা করেছো
তোমার নিজের হাতেই তোমার ফাঁ-সি হোক
তুমি ঝুলে পড়ো নায়লনের দড়িতে
ফাঁ-স নাও বেডরুমের ফ্যানে ঝুলে
না, না, বাথরুমের শাওয়ারে
তোমার মৃ-ত্যু হোক সর্বোচ্চ অসম্মানে…
তোমার প্রতি কোন সম্মান অবশিষ্ট নেই
কোন নাগরিক, কবি, ডাক্তার, মাওলানা, হকার কিংবা বেশ্যা
তোমার প্রতি সম্মান নেই কারোই…
এক ফোঁটাও
এমনকি ক্যান্টনমেন্টের দেয়ালে যেখানে পেচ্ছাব করে মানুষ
সেখানেও কেবল তোমার নামে ঘৃণা ছাড়া কিছু নেই
হে, খায়রুল হক,
আমি তোমাকে আ-ত্মহ-ত্যার পরামর্শ দেবো
হে অমানুষ বিচারক
আমি তোমার ফাঁ-সির রায় দেবার হক
তোমাকেই দেবো, তারপর
আ-ত্ম-হ-ত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আমার বিচার হবে
হোক!

❑
রি হোসাইন
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
জুলাই ২০২৪ এ লেখা

আগামীকাল ৩৬জুলাই তোমার পতন হবে





আগামীকাল ৩৬এ জুলাই ……
তোমার সাথে আমার দেখা হবে…
সামনাসামনি…..
সকল ব্যারিকেড, কার্ফিউ আর
তোমার মাস্তানদের রক্তপিপাসা মিটিয়ে দিয়ে হলেও
পুলিশের ফ্যাকাশে পোশাক রঙ্গিন হয়ে যাবে তবুও
তোমার সাথে আমার দেখা হবে…
হবেই ….
একদম সামনাসামনি…..

তুমি নিশ্চিত থাকো, আমি তোমাকে হত্যা করবো না,
আমি রক্তলিপ্সু নই …
কোন প্রশ্নও করবো না
তোমার সমস্ত উত্তর বুলেটের বারুদে ভরে
তুমিতো আগেই দিয়েছো …
এমনকি, তোমাকে কান্নার সুযোগও দেবো না…
তোমার কান্নার অভিনয়ে কুমিরেরাও যে লজ্জা পেয়ে যায়

তারপর
তোমার মিথ্যার পাহাড়
আমার চোখের আগুনে ছাই হয়ে যাবে
তোমার চকচকে জিভের বিষ
আমার নি:শ্বাসের ঝড়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে
আমার রক্তের স্রোতে
তোমার পায়ের তলার মাটি ভেসে যাবে
আমার সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে তুমি
তোমার তন্ত্রমন্ত্রের সকল খেলা শেষ হয়ে যাবে

আগামীকাল ৩৬এ জুলাই
তোমার পতন হবে….. চুড়ান্ত পতন
আগামীকাল আমি তোমার সামনাসামনি
সিনা টান টান করে দাঁড়াবো যখন…


জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
৪ই আগস্ট (৩৫এ জুলাই) ২০২৪ এ লেখা

তুমি লজ্জায় পড়ে যাবে!





তোমার প্রতিপক্ষ তুমিই,
তোমার ভাই, বোন, সন্তান আর আত্মীয়...
তুমি যাদের পক্ষ নিয়েছো তাদের তুমি জানো
তুমি মিথ্যাকে জানো...
তবুও এখনো যদি লজ্জা না হয় তোমার!
ধোঁকাবাজ তুমি, ঠকিয়ে যাচ্ছো নিজেকে,
তোমার আত্মা তোমাকে ক্ষমা করবে না, আমি জানি...
একদিন তোমারও লজ্জা হবে
লজ্জা হবে নিঃশ্বাস নিতে...!
বৃষ্টিতে ভিজতে, গাছের ছায়ায়, পাখিদের কাছে
তোমার সন্তানের যখন তোমার দিকে তাকাবে
লজ্জা হবে তোমার...
গান গাইতে, কবিতা লিখতে,
আর যখন মায়ের হাত তোমার মাথায় ছোঁয়াবে
যখন বাবার কথা মনে পড়বে
লজ্জা হবে...
লজ্জা হবে তোমার...
তোমার মাথার ভিতর ঘুরপাক খাবে সিজোফ্রেনিয়া
সিগারেটের ধোঁয়া তেতো হয়ে যাবে
চায়ের চুমুকে পুড়ে যাবে মগজ
ফুলের গন্ধ প্রতিশোধ নেবে তোমার সাথে
গোলাপের ঘ্রাণে বমি হবে তোমার
লজ্জায় তোমার ঘুম হবে না,
তারপরও তুমি সূর্যের দিকে তাকাতে পারবে না
মৃত্যুও হবে না তোমার, কারণ....
এই মাটিও তখন ঘৃণা করবে,
কাঠেরা হরতাল ডাকবে
তোমার চিতায় জ্বলবে না
তুমি প্রকাশ্যে অশ্বত্থামা হয়ে যাবে
কেউ তোমাকে নেবে না
কেউ চিনবে না
যে লাশগুলো তুমি মাড়িয়ে যাচ্ছো
তোমাকে ঘিরে ধরবে...
তুমি লজ্জায় পড়ে যাবে!!!
🔲
© রি হোসাইন

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
১৬ই জুলাই ২০২৪ এ লেখা

উত্তর



আমি আমার লাশের কাছে প্রশ্ন করলাম
কিভাবে প্রতিশোধ নিবে?
বললাম,
আমার আত্মা মিছিলে মশাল হবে,
বিপ্লবী পাটকেল আর
লাল সবুজের পতাকা বাধা লাঠি!
প্রতিশোধ নিবে আমার চোখ,
এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকবে হত্যাকারীর চোখে,
ভয়ংকর শীতল...
আমার রক্ত
ভাসিয়ে দেবে স্বৈরাচারের পায়ের তলার মাটি...
© রি হোসাইন

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
২৮এ জুলাই ২০২৪ এ লেখা

তীব্র নিন্দার খেলা

আমি মরছি...

আর তুমি নিন্দা জানাচ্ছো
তীব্র নিন্দা...
তীব্র থেকে তীব্রতর...
আর আমি, মরছি আর মরছি
গুলিতে, বুটের তলায় পিষে
মৃত্যু সংখ্যার সাথে সাথে তোমার নিন্দার তীব্রতা বাড়ছে
তোমার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় অনুপ্রাণিত হয়ে
মৃত্যুর সংখ্যা আরও, আরও বাড়ছে
আরও বাড়ছে তোমার নিন্দার তীব্রতাও
এ এক খেলা
নিন্দা আর মৃত্যুর
কিন্তু এ খেলায় পরাজয় তোমারই হবে
একদিন মরতে মরতে আমরা সব মরে যাবো
তারপর মৃত্যুর জন্য কেউ থাকবো না
তোমার নিন্দার তীব্রতাও আর বাড়বে না
©রি হোসাইন

জাতিসংঘের প্রতি - জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
১লা আগস্ট ২০২৪ এ লেখা