বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

নেতানিয়াহুর বাঁশি



নেতানিয়াহুর একটা বাঁশি আছে,
সেটায় যে যাদুকরী সুর ওঠে,
তাতে মুগ্ধ হয়ে যায় ট্রাম্প, মোদি, পুতিন, সিসি,
এমনকি বিন সালমানও।
সম্ভবত বাঁশিটি রোমের সম্রাট নিরোর থেকে পাওয়া।
বাঁশির সুরে হ্যামিলনের শিশুদের মতো,
গাজায় আছড়ে পড়ে লক্ষ লক্ষ বোমা।
পৌরাণিক রোমের মতো ফিলিস্তিন জ্বলে যায়,
কান্না আর হাহাকারের উৎসবে মেতে ওঠে বিশ্ব।
নিন্দার ঝড়, আর লোক হাসানো বিক্ষোভ,
নেতানিয়াহুর বাঁশি কেবল সুর তুলেই যায়।
জাতিসংঘের কাছে বাঁশিটি সাপুড়ের বীণ হয়ে যায়,
আর নেতানিয়াহু সেই বাঁশিটি বাজিয়ে,
জাতিসংঘকে সাপের মতো নাচায়....


©রি হোসাইন

পুরুষ




চাঁদ যখন তার পুড়ে যাওয়ার হৃদয় খুলে

তখন তুমি উপভোগ করো স্নিগ্ধ আলো


তাকেই তুমি পুর্নিমা বলো....

ড্রাকুলা



ই-স-রায়ে-লের নাগরিকেরা,
তোমাদের জন্য আমার মায়া হয়...
দিনের পর দিন,
যেভাবে তোমরা তোমাদের রক্তপিপাসু নেতাদের
সমর্থন করে গেছো, ট্যাক্স দিয়েছো,
এমনকি ভোটও দিয়েছো...
এর অর্থ তোমরাও ওই রক্তই পান করেগেছো...
দিনের পর দিন...
এই জন্যে তোমাদের হৃদয়ও পচে গেছে...
আর তাই,
তোমাদের জন্য আমার মায়া হয়
তোমাদের ড্রাকুলার জীবনের জন্য
আমার সমবেদনা..!!!
তোমাদের অভিশপ্ত যাপনের মুক্তির জন্য
আমার প্রার্থনা...!!!


©রি হোসাইন

ঈদ-উল-ফিতর



প্যালেস্টাইনের যেই শিশুটির সবকিছু কেড়ে নিয়েছিলো

প্রথমে ঘর, তারপর পিতা, তারপর মা এবং ভাইবোন,
যাকে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো রাস্তায়,
সবশেষে জীবনটিও কেড়ে নিয়েছিলো...
সেই শিশুটির আত্মারও আজকে ঈদ, ঈদ-উল-ফিতর!
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তাকে ফিতরা দেয়া যাচ্ছেনা,
যাকাত বরাদ্দ করা যাচ্ছেনা তার জন্য...
না দান, না ছদকা, না উপহার-অনুদান....
কেবল শিশুটির আত্মার-ই আজ ঈদ...
আমাদের নির্জীব রক্তকে,
সে কি সুন্দর লজ্জা উপহার দিলো....

© রি হোসাইন

বাড়ি




শৈশব থেকেই ভ্রাম্যমাণ জীবন যাপন করি,
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন আমাকে শুনতে হতো—
তা হলো, "কোথায় তোমার বাড়ি?"
আমার উত্তর ছিল একেক সময় একেকটা;
কখনো বিক্রমপুর, সান্তাহার,
কখনো শ্রীমঙ্গল অথবা রংপুর।

শৈশব থেকেই ভ্রাম্যমাণ জীবন যাপন করি;
ঠিকানা হারানো এই দীর্ঘ পথ চলায়—
স্টেশন বদলায়, বদলায় আত্মীয়তার রঙ,
বদলে যায় পরিচিত মানুষের মুখ,
মানচিত্রের দাগগুলো ঝাপসা হয়ে আসে।

শুধু বদলায় না চিরচেনা আঁচলের ছায়া,
যেখানে দুচোখ ভরা থাকে ছলছলে মায়া;
সেখানেই আমার আত্মার স্থায়ী ঠিকানা।

মা!
মা যখন যেখানে থাকেন,
আমি সেখানেই বসবাস করি;
মা-ই আমার বাড়ি।

© রি হোসাইন

নিখোঁজ




যাদেরকে পাওয়া যায়নি
যাদেরকে পাওয়া যাবেনা
এমনকি লাশও না
শার্টের একটা বোতামের আধপোড়া অংশ ছাড়া
একটা ভ্যানের জ্বলে যাওয়া স্পোকের শেষাংশে
আর কিছু মিলে না
এমনকি গায়ের গন্ধও না

যাদেরকে পাওয়া যায়নি
যেনো চেটেপুটে খেয়ে, পালিয়েছে পিশাচিনী

রি হোসাইন
❑

৬ই আগস্ট ২০২৪ 

কৌতুক



এক পকেট বিক্ষোভ নিয়ে
অনুমতির অপেক্ষায়…
বসে আছি
সাজানো বুট থপথপে চেয়ে আছে,
জড়ো করে রাখা রাইফেল,
বুলেটের ভাণ্ডার যার পাশেই,
যেখানে রক্ত, বমি আর পায়খানা
তারা আমাকে দেখে হাসছে…

আর, এক কলম বিদ্রোহ নিয়ে
আমি মিনমিন করে কবিতা লিখি
আমি জানি না
কবিতা লেখার অধিকার
আমাকে কে দিয়েছে?

রি হোসাইন
❑

হে, খায়রুল হক



আ-ত্মহ-ত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আমার বিচার হবে
হোক!
হে বিচারপতি, তবুও তোমার নিজের হাতেই
তোমার বিচার হোক
তুমি আমার ভোটের অধিকার হ-ত্যা করেছো
তোমার নিজের হাতেই তোমার ফাঁ-সি হোক
তুমি ঝুলে পড়ো নায়লনের দড়িতে
ফাঁ-স নাও বেডরুমের ফ্যানে ঝুলে
না, না, বাথরুমের শাওয়ারে
তোমার মৃ-ত্যু হোক সর্বোচ্চ অসম্মানে…
তোমার প্রতি কোন সম্মান অবশিষ্ট নেই
কোন নাগরিক, কবি, ডাক্তার, মাওলানা, হকার কিংবা বেশ্যা
তোমার প্রতি সম্মান নেই কারোই…
এক ফোঁটাও
এমনকি ক্যান্টনমেন্টের দেয়ালে যেখানে পেচ্ছাব করে মানুষ
সেখানেও কেবল তোমার নামে ঘৃণা ছাড়া কিছু নেই
হে, খায়রুল হক,
আমি তোমাকে আ-ত্মহ-ত্যার পরামর্শ দেবো
হে অমানুষ বিচারক
আমি তোমার ফাঁ-সির রায় দেবার হক
তোমাকেই দেবো, তারপর
আ-ত্ম-হ-ত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আমার বিচার হবে
হোক!

❑
রি হোসাইন
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
জুলাই ২০২৪ এ লেখা

আগামীকাল ৩৬জুলাই তোমার পতন হবে





আগামীকাল ৩৬এ জুলাই ……
তোমার সাথে আমার দেখা হবে…
সামনাসামনি…..
সকল ব্যারিকেড, কার্ফিউ আর
তোমার মাস্তানদের রক্তপিপাসা মিটিয়ে দিয়ে হলেও
পুলিশের ফ্যাকাশে পোশাক রঙ্গিন হয়ে যাবে তবুও
তোমার সাথে আমার দেখা হবে…
হবেই ….
একদম সামনাসামনি…..

তুমি নিশ্চিত থাকো, আমি তোমাকে হত্যা করবো না,
আমি রক্তলিপ্সু নই …
কোন প্রশ্নও করবো না
তোমার সমস্ত উত্তর বুলেটের বারুদে ভরে
তুমিতো আগেই দিয়েছো …
এমনকি, তোমাকে কান্নার সুযোগও দেবো না…
তোমার কান্নার অভিনয়ে কুমিরেরাও যে লজ্জা পেয়ে যায়

তারপর
তোমার মিথ্যার পাহাড়
আমার চোখের আগুনে ছাই হয়ে যাবে
তোমার চকচকে জিভের বিষ
আমার নি:শ্বাসের ঝড়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে
আমার রক্তের স্রোতে
তোমার পায়ের তলার মাটি ভেসে যাবে
আমার সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে তুমি
তোমার তন্ত্রমন্ত্রের সকল খেলা শেষ হয়ে যাবে

আগামীকাল ৩৬এ জুলাই
তোমার পতন হবে….. চুড়ান্ত পতন
আগামীকাল আমি তোমার সামনাসামনি
সিনা টান টান করে দাঁড়াবো যখন…


জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
৪ই আগস্ট (৩৫এ জুলাই) ২০২৪ এ লেখা

তুমি লজ্জায় পড়ে যাবে!





তোমার প্রতিপক্ষ তুমিই,
তোমার ভাই, বোন, সন্তান আর আত্মীয়...
তুমি যাদের পক্ষ নিয়েছো তাদের তুমি জানো
তুমি মিথ্যাকে জানো...
তবুও এখনো যদি লজ্জা না হয় তোমার!
ধোঁকাবাজ তুমি, ঠকিয়ে যাচ্ছো নিজেকে,
তোমার আত্মা তোমাকে ক্ষমা করবে না, আমি জানি...
একদিন তোমারও লজ্জা হবে
লজ্জা হবে নিঃশ্বাস নিতে...!
বৃষ্টিতে ভিজতে, গাছের ছায়ায়, পাখিদের কাছে
তোমার সন্তানের যখন তোমার দিকে তাকাবে
লজ্জা হবে তোমার...
গান গাইতে, কবিতা লিখতে,
আর যখন মায়ের হাত তোমার মাথায় ছোঁয়াবে
যখন বাবার কথা মনে পড়বে
লজ্জা হবে...
লজ্জা হবে তোমার...
তোমার মাথার ভিতর ঘুরপাক খাবে সিজোফ্রেনিয়া
সিগারেটের ধোঁয়া তেতো হয়ে যাবে
চায়ের চুমুকে পুড়ে যাবে মগজ
ফুলের গন্ধ প্রতিশোধ নেবে তোমার সাথে
গোলাপের ঘ্রাণে বমি হবে তোমার
লজ্জায় তোমার ঘুম হবে না,
তারপরও তুমি সূর্যের দিকে তাকাতে পারবে না
মৃত্যুও হবে না তোমার, কারণ....
এই মাটিও তখন ঘৃণা করবে,
কাঠেরা হরতাল ডাকবে
তোমার চিতায় জ্বলবে না
তুমি প্রকাশ্যে অশ্বত্থামা হয়ে যাবে
কেউ তোমাকে নেবে না
কেউ চিনবে না
যে লাশগুলো তুমি মাড়িয়ে যাচ্ছো
তোমাকে ঘিরে ধরবে...
তুমি লজ্জায় পড়ে যাবে!!!
🔲
© রি হোসাইন

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
১৬ই জুলাই ২০২৪ এ লেখা

উত্তর



আমি আমার লাশের কাছে প্রশ্ন করলাম
কিভাবে প্রতিশোধ নিবে?
বললাম,
আমার আত্মা মিছিলে মশাল হবে,
বিপ্লবী পাটকেল আর
লাল সবুজের পতাকা বাধা লাঠি!
প্রতিশোধ নিবে আমার চোখ,
এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকবে হত্যাকারীর চোখে,
ভয়ংকর শীতল...
আমার রক্ত
ভাসিয়ে দেবে স্বৈরাচারের পায়ের তলার মাটি...
© রি হোসাইন

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
২৮এ জুলাই ২০২৪ এ লেখা

তীব্র নিন্দার খেলা

আমি মরছি...

আর তুমি নিন্দা জানাচ্ছো
তীব্র নিন্দা...
তীব্র থেকে তীব্রতর...
আর আমি, মরছি আর মরছি
গুলিতে, বুটের তলায় পিষে
মৃত্যু সংখ্যার সাথে সাথে তোমার নিন্দার তীব্রতা বাড়ছে
তোমার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় অনুপ্রাণিত হয়ে
মৃত্যুর সংখ্যা আরও, আরও বাড়ছে
আরও বাড়ছে তোমার নিন্দার তীব্রতাও
এ এক খেলা
নিন্দা আর মৃত্যুর
কিন্তু এ খেলায় পরাজয় তোমারই হবে
একদিন মরতে মরতে আমরা সব মরে যাবো
তারপর মৃত্যুর জন্য কেউ থাকবো না
তোমার নিন্দার তীব্রতাও আর বাড়বে না
©রি হোসাইন

জাতিসংঘের প্রতি - জুলাই অভ্যুত্থানের সময় লেখা কবিতা -
১লা আগস্ট ২০২৪ এ লেখা

শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫

জলবায়ু

এই জলবায়ু, এ কঠিন ঋতুচক্র আমার,

আগলে রেখেছি সব ইতিহাস অভিমানের।
থামিয়ে দমিয়ে রেখেছি ভীষণ বন্যার্ত স্রোত,
ভাঙাচোরা তবুও ঠায় দাঁড়িয়ে জড়িয়ে ওতপ্রোত।
হাতে হাত রেখে বুনেছিলাম এ ব্যাকুল বাঁধ,
চিবুকের ঘ্রাণে রেখেছিলাম আমার প্রেমোন্মাদ।
তোমার তো জানাই আছে কখন বৃষ্টি হয়,
তুমি তো জানোই, আর্দ্র বাতাসের পরিচয়...

©রি হোসাইন

বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

অগ্নিকাণ্ডের পরে...

 


একদিন সেখানেও আগুন লাগবে
তারপর তুমি নিজেই স্বীকার করে নেবে
কুরসিটা বৈধ ছিলো না!!!

আমানউল্লাহ আমান


আমি রোপন করি বিশ্বাস,
জন্মাই মেহনতী বৃক্ষের চারা
আমার নখের সামর্থ্য তুমি রাখো না
আর তাই উপড়ে ফেলো নখ
আর তাই ভয় পাও দুর্ব্বা ঘাস

নেশা




আমার যখন গাড়ি কেনার নেশা পায়
কিন্তু পকেটে, ব্যাঙ্কে, আলমিরাতেও টাকা নাই


আমি জনে জনে টাকা চাই
ধার না- পাওনা টাকা,
কিন্তু ধারের মতোই
অনুনয়-বিনয় করি, হাত কচলাই

এই দিকে দুনিয়া ভরা বিপ্লব
ব্যবসা চলে না, রফতানি অর্ডার নাই
রিজার্ভে ডলার নাই
মোদ্দা কথা আমার টাকা আমার পকেটে নাই....

তবুও আমার গাড়ি কেনার নেশা পায়...
যদিও আমার ড্রাইভার নাই.....
আমার ভাঙাচোরা প্রিয়তমাকে আমিই চালাই
চলেও দারুণ
চালানোর সময় মনে হয়
এটাই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সেডান
এর থেকে মজা আর কিছুতেই নাই
তবুও আমার অন্য গাড়ি কেনার নেশা পায়
পরকীয়ার নেশার মতো.... 

একদিকে টাকা নাই,
অথবা, ঠিক তা নয়...
আসলে নিজের টাকা নিজের কাছে নাই
ঐদিকে এই যে আমার টাকা
তার ভবিষ্যৎ নিয়েও আমি চিন্তিত

আমার মহান সহকর্মীরা তাদের স্বচ্ছতা
কোথাও যেনো বর্গা দিয়েছেন
রক্তসম্পর্কীয়রা
তাদেরও চোখ যেনো লোলুপ আর হিংস্র
আমার সন্তান,
সুশিক্ষা ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ তাদের দিতে আগ্রহী নই

আমি আমার টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত
যেটা এখন আমার কাছে নাই
হয়তোবা আর ফিরবেও না
তবুও আমার গাড়ি কেনার নেশা পায়
আমার কোনো ড্রাইভার নাই
আমার ভাঙাচোরা প্রিয়তমাকে আমিই চালাই

রংপুর



হে শহর,
বহুকাল যাবত মহানগর হতে হতেও
মফস্বলই থেকে যাওয়া,
হে কালোধোয়াহীন সুপেয় শহর,


শয়তান আর পরীদের পরকীয়া করা হে,
মুক্তির সুইচ অন করে দেয়া
মৃত্যুকে আপন করা মাটি,
শ্যামাসুন্দরীর আত্মহত্যা করা জনপদ,
হে সরল... আমাকে মুক্তি দাও...

একটা যাযাবর যৌবন তোমাকে দিয়ে
তোমার সমস্ত উর্বরতা আমি চুরি করে নিয়ে এসেছি,

থোকা থোকা কুয়াশা ভেদ করা আমার চোখ
ফেরাবেনা দৃষ্টি,


হে বিষন্ন রোদের শহর,
আমি আর ফিরবো না জেনেও
তুমি তাকিয়ে থাকো।
হে শরৎকাল,
আমাকে ক্ষমা করে দাও,
তারপর আবার
তুমি ভালো থাকো...।

মানচিত্র


 

গলির মাথায় একটা সেলুন ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়ার পর 

এটা এখন একটা বিস্কুটের দোকান 

তাই নিয়ে দ্বন্দ্ব, 

অথচ, এতদিন এখানে নজর ছিল না কারোই 

দুই দল কুকুর সীমান্তযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে 


দোকানটির পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে 

পেচ্ছাব করে যায় এক কুকুর নেতা, 

ওমনি সীমানা তার দলের 

অপর দলের নেতা কুকুরটিও 

পেচ্ছাব করে দিলো দোকানের দেয়ালে, 

কখনো দোকান বন্ধ হলে 

পেচ্ছাব করার প্রতিযোগিতা চলে দোকানের সাটারে 


কুকুরের মানচিত্র খুবই ছোট 

পাড়ায় একটা ছোট্ট গলিও 

মাঝে মাঝে ভাগ হয়ে যায় 

পেচ্ছাব করে করে এরা সীমানা গড়ে, 

সীমানা বাড়ায় 

স্বাধীন কুকুরেরা বন্দী হয়ে যায় 

তাদের পেচ্ছাবের মানচিত্রে 


তারপর চলে দিনভর যুদ্ধ, 

পেচ্ছাবের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, দাবি-দাওয়া 

এক দল খুবলে নেয় আরেক দলের মাংসপিণ্ড 

কুকুরের ক্ষতে সংক্রমিত হয় পাড়া, 

জন্ডিস হয়, হাঁপানি আর কারো কারো হয় কলেরা 


বিস্কুটের দোকানে জমজমাট ব্যবসা চলে 

কুকুরের পেচ্ছাবের গন্ধে হয়তো চায়েরও স্বাদ বাড়ে...


ভয়!




খুব ভোর বেলায়, স্বপ্নে
দেখা হলো ইমতিয়াজ মাহমুদ
শেখ মুজিবের আকাশটা হাতে নিয়ে
একটা পাখি খুঁজে বেড়াচ্ছে....!!!

কোন পাখিই সেখানে উড়ছেনা

ভয় পেয়ে আমার চড়ুই পাখিরাও
বুক পকেটে লুকাচ্ছে!!!

ঝাপটা বাতাসের গান

আমি যে সহজ ভাষায় কথা বলি 

তুমি বোঝ না! 


অথচ একটা শামুকও 

অভেদ্য পূর্ণিমা ছেদ করে এইখানে আসে... 

যার সাথে বর্ষার বোঝাপড়া বেশ 

এইটা সে বোঝে, অনুরূপ নিশ্বাসে


ঝাপটা বাতাসের গান সেও গায় 

আমাকে শোনায় 


শুনতে কি পাও 

বদলে যাওয়া ভাষায়

অন্ধকার পূর্ণিমা কি ডাক দিয়ে যায়?