সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১২

আমাদের দেখা হয়নি



আমাদের দেখা হয়নি এখনো,
একসাথে যুদ্ধে যাবার কথা ছিল;
অথচ, তুমি একাই যুদ্ধে গেলে আমারই প্রতিপক্ষ হয়ে।
তবুও আমাদের দেখা হয়নি এখনো,
কেননা আমি যুদ্ধে যাইনি।
একটি কালো বিড়াল আমার পথ আগলে রেখেছিল,
টিয়াপাখির আন্দোলনের মুখে পড়ে
আমি প্রত্যাহার করে নিয়েছি আমার অস্ত্র।
আমাকে দলে ভিড়িয়ে নিয়েছে শিশুকাঠের গাছেরা—
রোদেও যাদের ছায়া পড়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো।
সেখানে বাতাসের শব্দে কোনো হাহাকার নেই,
আছে কেবল রোদ, বাতাস আর পাতাদের আজন্মের মিতালি।
আমি এখন মাছেদের দলে, আমাদের যুদ্ধে যেতে হয় না...
তারপরও আমরা হত্যাযোগ্য...
যেহেতু তোমার সাথে দেখা হয়নি এখনো, তাই
তুমি আমাকে হত্যা করতে পারোনি।
আমাকে হত্যার জন্য বানাচ্ছ ভারী ভারী সব
ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এমনকি পারমাণবিক বোমা;
অথচ আমি বুনছি এক আকাশ নীল স্বপ্নের জাল।
তোমার সাথে দেখা হলে আমি তোমাকে পাখিদের বার্তা দেবো,
তোমাকে নিয়ে বুনো হাঁসের মতো দেবো উড়াল
নতুন নতুন দ্বীপে বাসা বানাবো;
তোমার সাথে দেখা হলে তোমাকে ভালোবাসা দেবো।
আমাদের দেখা হয়নি এখনো;
তুমি আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছো হত্যা করতে,
আর আমি তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি ভালোবাসতে।

রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১২

তুমি- ৩২

আমার জল পাত্রে বিষণ্ণ অশ্রু ঢেলে 
এক উদাস বর্ষা সজিয়ে দিলে
এখন বৃষ্টির জল কোথায় রাখি 


এ হৃদয় অনন্ত পাথার কতকাল থেকেই

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১২

বৃহস্পতিবার

ব্যাস্ত নির্জনতা থমকে যায় শহুরে বিকেলে
শূন্যতা উথলিয়ে ঝড়ের আয়োজন
দিগন্ত ঢাকা পড়ে গেছে কংক্রিট দেয়ালে
অদ্ভুত অসময়; ক্লান্ত ফেরার সময়
লুটপাট হয়ে যায় বৃহস্পতিবার...

এরি মাঝে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখি
চোখ বুজে মনচোখ দিয়ে দেখি,
গোধূলির সূর্যটা যেন লাল শাড়ি পরে
দেখতেই থাকি, যেন ফিরতেছো ঘরে
সাধ হয়, নাম ধরে তোমাকে ডাকার...

©রি হোসাইন



শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২

কালো কবিতা ৩০

উত্তর গুলো অপেক্ষাকৃত সহজ প্রশ্ন গুলোর থেকে
ঠিক যেমনটা তুমি চেয়েছিলে
সার্কাসের সং দের মত হতেই চেয়েছি
কিংবা নদীর কিনারায় স্যাঁতস্যাঁতে বালিয়াড়ি
কি নিপুন সমাধান চাঁদ আর প্রেমে 

ইদানিং সহজ সহজ প্রশ্ন গুলো
দ্বিধাগ্রস্থ ভগ্নাংশের উত্তরে বিদ্ধস্ত আমাদের জীবন জাপন গুলো

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

কালো কবিতা-২৯



আদতে এই অন্ধকারও মশগুল হয়ে আছে
যেমনটা আসক্ত মাতালের চোখ ও তার বিবিধ ঘোর
দুঃখ ছিল কতেক রাতারাতি ভোর
আমাদের দৃষ্টির ধাধা কেবল আটকে গেছে
অপ্রস্তত নীলিমায়
আদতে এই অন্ধকারও মশগুল হয়ে আছে

আমাদের নেশা গ্রস্থ চোখ
দিগন্তে তাকানো ভুলে গেছে
সেখানে
প্রতিদিন অযথাই সূর্য উঠে

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

সাইক্লোন



এক ঝাপটা বাতাস হয়ে
তোমায় ছোঁয়ার পর
আমার ভেতর উন্মাদনায়
লণ্ডভণ্ড ঝড়...
সেই ঝড়ে আজ ভেঙেছে ঘর
উড়ছে স্মৃতির ধুলো,
হৃদয় জুড়ে আছড়ে পড়ে
পুরোনো মেঘগুলো...
শান্ত হওয়ার সাধ্য কোথায়?
তুফান ভীষণ ভারী,
তোমার জন্যেই বইছে বাতাস
বসত ভিটা ছাড়ি...
হৃদয় জুড়ে সাইক্লোনের
অশান্ত এই টানে,
কেমন করে শান্ত হবে—
তুমি ছাড়া কে জানে?
© ©রি হোসাইন








বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১২

তুমি - ৩১

তোমার অস্বস্তির পেছনের কারন খুঁজে পাচ্ছোনা 
এবং এটা অমাবস্যার রাতও নয়
অথবা আকাশ বিশ্বাসঘাতক হয়নি মেঘের উৎসাহে
এটা আলোকিত এবং তোমার-ই উপযুক্ত
এখানে চুম্বনে বাধা নেই কিংবা নগ্ন হতে
কাম সুত্রের সমস্ত বিশেষণ এখানে সাবলিল
এবং প্রত্যাশিত পৌরুষ তোমার সহচর
আর প্রতিবার তোমার তৃপ্ত স্নানে মশগুল মধু সরোবর

অথচ
তুমি অসহায় হৃদয় নিয়ে জ্বলে যাচ্ছো অবিরত
আথবা হয়তো আমার কাছেই তোমার সমুদ্র ছিল

অসময়

অপেক্ষায় থেমে যায় সময় আর দীর্ঘ হয়ে যায় দূরত্ব... তাকালেই ফিকে হয়ে যায় দৃশ্যপট, সূর্যটা যেন তোমারই অন্তর্গত। সন্ধ্যার রঙে মিলে-মিশে থাকো তুমি ছায়ার মতো দীর্ঘ হও আঙিনায়, একলা দাঁড়িয়ে দিগন্তের শেষ প্রান্তে— যেখানে এসে পথগুলো সব হারায়। নিঃশব্দে জমেছে কুয়াশা-ধোঁয়া স্মৃতির পাতায় ধুলোর আস্তরণ, তুমি নেই, তবু তোমারই উত্তাপে— পুড়ছে সমস্ত ধূসর জীবনযাপন।

©রি হোসাইন

মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১২

কালো কবিতা -২৮



যে কবিতা গুলো শেষ হয়ে গেছে
আমি বার বার সেগুলই লেখি
যে ফুলের গন্ধ শুকিয়ে গেছে
আমি সেই ফুল দিয়ে অযথাই মালা গাথি

বিষণ্ণ বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে গেছে
অথবা সূর্যটাই কালো হয়ে গেছে

শুক্রবার, ২ নভেম্বর, ২০১২

কালো কবিতা -২৭


সতের বছর দেখতে দেখতে কেটে যাবে
আমার বিগত ২০ বছর কেটেই তো গেল,
আমি জানি তার থেকে ভালোই হবে শীতাতপ যন্ত্রের ভিতর একটা শীত ঘুম।
আমার নরকে গুমোট অন্ধকারের ভিতর এখনও সূর্যের নিষ্ঠুর অভিমান।
তার চেয়ে অনেক সহজ ...  সতের বছর দেখতে দেখতেই কেটে যাবে
যেহেতু তোমার কিছু ভুল ছিল সাজার ওজনে
আথচ আমি নিষ্পাপ


অভিশাপ গুলো নিষ্পাপীদের জন্যে
বিপ্লব গুলো আজ অপরাধীর শয্যা সঙ্গিনী
বিপ্লবিরা পরিত্যাক্ত বীর্যের মত পাপ হয়ে ঘুরে ফেরে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া কনডমে কনডমে

বুধবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১২

বিপ্লবি- ৩৫



আমার গান তোমার ভাল লাগবে না

এ গানে বিমোহিত সুর নেই, আরাম দায়ক কথা নেই
ঝংকার নেই, নৃত্য উপযোগী তাল নেই
প্রেম নেই, উত্তাল আনন্দ নেই
আমার গান তোমার জন্য তবুও

এই গান শুধু একটা ই চিৎকার
বিপ্লব, শুধু বিপ্লব
এই গান তোমার মুক্তির হুংকার

সোমবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১২

নিমগ্নতা



এই যে মেঘ, 
এই যে স্পর্ধার চুড়ান্ত দেখিয়ে দিচ্ছো 
এই যে সীমাহীনতা, 
এই যে আদ্র সমুদ্র, এই যে বিশ্বাস
রুদ্ধশ্বাস ফোঁটা ফোঁটা.... আজন্ম নিমগ্ন আমি 

চলো হাত ধরে হেঁটে আসি অনন্তকাল....



শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১২

বিপ্রতীপ


 
প্রথম যখন কাগজের ভাজে নৌকা বানানো শিখি 
এর পর থেকে কতবার বৃষ্টির লোভে 
আকাশকে ঈশ্বর বলে ডাকতাম 
অথবা, ঈশ্বরকে আকাশ বলে ভাবতাম 

সাদা মেঘগুলো আমাকে আশা দিয়ে চলে যেতো বারবার 
কিংবা কখনো আমার ঈশ্বর স্বয়ং নেমে আসতো 
স্বতঃস্ফূর্ত জলের সিঁড়ি বেয়ে, বৃষ্টি হয়ে 

তখন খুব যত্ন করে নৌকা বানাতাম 
কাগজের শৈল্পিক ভাজে ভাজে 
আরো একটা ঈশ্বর আবিষ্কার করলাম নিজের ভিতর 
তারপর আমরা যুগল ঈশ্বর মিলে এইবার নৌকা ভাসাবো 
আঙ্গিনার পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা 
মসদগাঁও খালের অনুকূল স্রোতে 

এইভাবে সব ঠিক ছিল 
শৈশবে ঈশ্বর আমার খেলার সাথী 
কিংবা বৃষ্টি এবং স্রোত 

আমার ভিতরের ঈশ্বর খুব ভীতু ছিলেন 
আর ছিলেন প্রথাভক্ত এবং বাধ্যগত 
কাগজের নৌকাগুলো ভাসিয়ে দেওয়ার পর 
যখন সেগুলো দৃষ্টির আড়াল হতো 
খেলা শেষ হয়ে যেতো 

একদিন কোনো এক নতুন ঈশ্বর আমি খুঁজে পেলাম 
আমার কৌতূহলে 
একদিন প্রথা ভেঙে পিছু নিলাম স্রোতের 
আমার ভাসানো নৌকাগুলোর, 
কোমল স্নেহগুলোর খোঁজে 
অনুকূল স্রোতের অবশেষে, 
ঘোড়াদোর কাঠের পুলের পরে 
খুঁজে পেলাম বিভৎস ঘূর্ণিপাক 
আমার কোমল স্নেহের নৌকা 
পলকেই মিলে গেলো কোথায় 

আমি বহুকাল অপেক্ষায় ছিলাম 
একদিন ঘূর্ণিপাক থেমে গেলেও 
আমি আমার নৌকা খুঁজে পেলাম না 
তারপর পেছন ফিরে পেলাম 
কাঠের পুলের বদলে পাকা সেতু, 
আর মসদগাঁও খাল, 
সেখানে এক দুঃস্বপ্নের দেয়াল 

ঈশ্বরও হারিয়ে গেলো কোথায় 
সেও ফেরেনা সেই আঙ্গিনায় 
বুঝতে পেলাম স্রোতের অনুকূলে 
কোন পেছন ফেরা নেই 

আমি তাই স্রোতের অনুকূলে চলি না 
অথবা স্রোত আমার বিপরীতে চলে 
 







মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১২

বিপ্লবি- ৩৪



আমি খুব দ্রুত হাটি
কারন ফুটপাথে নামার আগেই আমি একটা গন্তব্য ঠিক করে নেই
কিন্তু এলোমেলো পায়ের মিছিলে
আমি বারবার থমকে যাই
গন্তব্যহীন মানুষ গুলো দ্বিধাগ্রস্থ

এখন ফুটপাথে হাটতে গিয়ে অস্বস্তি লাগে
আর তাই এখন আর কোন গন্তব্য ঠিক করি না
প্রেম গুলো হতাশ বালিশের নিচে চাপা পড়ে থাকে
সেখানে অন্ধকার একটা বিপ্লবের অপেক্ষায় মৌন মিছিল সাজায়

একদিন বিপ্লবি ঠিক-ই বের হয়ে যাবে অন্ধকার থেকে
একদিন মানুষ গুলো ঠিকানা পাবে
এরপর ব্রজ্র স্লোগানে বিজয়ী মিছিল হবে
 প্রেমিকেরা দ্রুত বেগে ফুটপাথ ধরে হেটে যাবে প্রেমিকার কাছে




শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১২

বিপ্লবি-৩৩



একটা বিপ্লবের গন্ধ নিয়ে আমি সারা রাত জেগে থাকি
এখানে সেখানে মাখি আর কোথায় যে রাখি
আমার ঘুম হয় না,
এখন আমি স্বপ্ন দেখা ভুলেই গেছি

এখন আমি সূর্যের গায়ে বিপ্লবের স্বপ্ন আঁকি
এখন আমি চিৎকার করে বিপ্লব ডাকি

বিপ্লবি-৩২



আয়নার শহরে সূর্যের অভিমান
ভাঙা কাচে খুন হয়ে গেছে বিপ্লবি
আধারে আধারে ঠোকাঠুকির বিবর্তন
অন্ধ কলমে হাহুতাশ লিখে যায় কবি

শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১২

কালো কবিতা -২৫



আমাকে সাজা দিতে হলে কিছুটা ধুরন্ধর তোমাকে হতেই হবে
আসলে আমি খুব আলস, ঘুম থেকে দেরি করে জাগি
এবং এর কোন নিদৃষ্ট সময় ও নেই ......
তাই তোমাকেই আর কিছু অধ্যাবসয়ী হতে হবে
আমাকে সাজা দিতে হলে কিছুটা এলো মেলো তোমাকে হতেই হবে
আসলে আমি খুব এলোমেলো হাটি
পুরোটা জীবন গোছাতে গোছাতে কাটিয়ে দিয়ে ভুলেই গেছি গোছাবার নিয়ম
তাই তোমাকেই এলোমেলো সব রাস্তার ধারে লুকোতে হবে


আমাকে সজা দিতে হলে কিছুটা কালো তোমাকে হতেই হবে
আমি খুব একরোখা প্রেমিক
আমি থাকি পরাজিত বিল্পবে
আমাকে কেবল অন্ধকারেই খুজে পাবে

বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১২

খেলা



বিষধর সাপ নিয়ে খেলা করে অন্ধ সাপুড়ে
পরাজিত সাপ বিষদাঁত ভাঙ্গে নিজ মাথা কুটে কুটে

রবিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১২

বিপ্লবি- ৩১



আমার এক বিন্দু আকাশ হলেই যথেষ্ট
একটা কারাগার আমার জন্যে প্রস্তুত করে রেখো
সেখানে কোনো জানালা রেখোনা
এমন কি একটা ছিদ্র পর্যন্ত

তারপরও যদি পারো
বিপ্লব আটকে রেখে দেখিও

শুধুমাত্র এক বিন্দু আকাশ হলেই যথেষ্ট

বিপ্লবি-৩০



আমার হাতে কোন আস্ত্র নেই
আমি শুধু একটা শব্দের অপেক্ষায় আছি
তার পর বুকের রক্তের পরমাণুতে বিপ্লব ফোটাবো
আমি শুধু তোমাদের একটা গান শোনাবো ......।