শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৩

জেনে গেছে সবাই



বিপ্লব পোড়াতে কত টুকু ডিজেল লাগে
এখন আর সামর্থ্য নেই কিনে জ্বালিয়ে দেবো
কত টুকু দাম বাড়ালে সার্থক হয় জেনে গেছে সবাই
জেনে গেছে সবাই এই সব স্লোগানের দৌড়
হরতাল, যুদ্ধাপরাধ আর জয় বাংলা

মাসের শেষে দিন গুলো অফিস করা দুর্বিষহ
এখন দুটাকার বাস ভাড়া পাঁচটাকা কাল থেকে ছয় নাকি সাত?
মারামারি, পোড়া মবিলের দাগভরা জামা
শুধু বেড়েই যাচ্ছে পায়ে হাটা দূর,স্বপ্নের পোর্টফলিও
বড় শহর আরো বড় মেগা সিটি , পি এফ আই লংকা বাংলা
কালো জুতা আর সাদা সাদা ধুলা,
ডিটারজেন্ট ফেনায় ভাসে সুস্মিতার পরচুলা, জেনে গেছে সবাই
হরতাল, যুদ্ধাপরাধ আর জয় বাংলা

জেনে গেছে সবাই, শুধু বোকাচোদা আমি কিছু জানি নাই
আর বাদ বাকি সব সালা খানকিরপোলা

বুধবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৩

কালো কবিতা-৩৯



জোনাকির আগুনেও পুড়ে যেতো শীতকাল
উন্মাদ ভ্রমর গুলো বেছে নিতো সূর্য হলুদ গাঁদায়
ইদানিং প্রেম আর বিপ্লব বড় আসহায়

আমার লোমকূপ গুলো অলস হয়ে গেছে

কালো কবিতা-৩৮



খুব রাত্রে কিছু শিশির ফিরে এসেছিলো
আবার কুয়াশা হতে চায়
ঘাস গুলো নাকি সর্বভুক ছিলো ...
যা খুশি তাই খায়

সকালে সূর্য ঘাস ফুল হয়ে-ই জন্মেছিলো
শিশিরের শীতকাল এ পর্যন্তই
এলোমেলো বসন্ত তো আর বিপ্লব নয়

মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৩

আমি একটা হেরে যাওয়া মহাকাল



যেখানে উৎসবের শব্দ সবচেয়ে বেশি,
সেখানেই আমি এক নিভৃত নিরুদ্দেশ;
উপেক্ষার ভিড়ে নিজেকে জ্বালিয়ে জ্বলি—
থাকা না-থাকার এই তো খেলা শেষ।

সবখানে থেকেও, আমি থাকিনা কোথাও,
পূর্ণতার মাঝেও এ এক অদ্ভুত আকাল;
বেঁচে থাকি রোজ, বারবার মরে গিয়েও
আমি একটা হেরে যাওয়া মহাকাল।
©রি হোসাইন

সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২

বাংলা একাডেমি


 
আমার কাছে বাংলা একাডেমি বাইম মাছ মনে হয় 
পিচ্ছিল তার পথ 
সাপের মতো দেখতে হলেও ফোসফাস নাই 
ফণা তুলে না... 
ত্যাড়াব্যাকা চলে, এই এতটুকুই....!!! 
নদীতেই বাঁচে, 
কিন্তু একমাত্র নদী শাসনই এর কাজ.... 
নদীতে ভাঙন এলে আটকানো যায় না রে 
ভাষা তার গতিপথ নিজেই ঠিক করে নেয়। 

রি হোসাইন

শনিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১২

দৃষ্টি


আমার জানাজায় এসো...
দখেবে তাকেিয় আছে আমার শ্রদ্ধভরা চোখ
তোমাদরে জন্যই


যদি এই মৃত্যু হয় র্সাথক...!!!

শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১২

কবিতার কালো হাত ভেঙে দাও


 
কবিতার হাত কত লম্বা
আইনের চেয়েও? 
কবিতাও অন্ধ হয় বিচার দেবীর মতো? 

সেই লম্বা হাত দিতে
প্রেম নিয়ে ছিনিমিনি খেলে লম্পট শব্দকর
মানুষের কথা বলে না
তাহলে রাজনীতি হয়ে যায়... 
কবিতার হাত রাজনীতি ছোয় না... 
এই হাত খুবই নিপুণ 
এই হাতের মালিক সুকন্ঠি সুশীল... 

অথচ কি জঘন্য 
আমি ওদের বলে ফেলি দালাল 
আমি বলি ওটা কালো হাত, সুবিধাবাদী জঞ্জাল 

যখন কবিতার অভ্যুত্থান চাই
তারপর খালি পায়ে, শুন্য পকেটে 
সবকিছু ছেড়েছুড়ে মিছিলে যাই 
বাতাসে স্লোগান উড়াই 
কবিতার কালো হাত 
ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও!

সৈকতে




গভীর নীল আর লোনা বাতাসের ঘ্রাণে,
তোমার ডাক মিলেমিশে একাকার সমুদ্রেরই গানে।
বালুতে যে পায়ের চিহ্ন ঢেউয়ে গেছে আজ মুছে,
হারানো সেই রংধনুটা, তোমার মনের ভেতরই আছে।

দাঁড়িয়ে থেকো না একা একা ঐ বিষণ্ণ সৈকতে
স্মৃতিরা আসুক ফিরে ফিরে এই উত্তাল ঝাপটাতে
সমুদ্র তো ভোলে না কাউকে, সে বড় আপনজন,
তোমার নামে সুর বেঁধেছে তার প্রতিটি স্পন্দন।

প্রলোভন



ডুবে যাওয়ার প্রলোভনে
নদী, সমুদ্র, মহাসাগর...
সাঁতার কেটে যাচ্ছি...

গিলে খাচ্ছি নোনাজল
তবুও হায়!
ডুবে যাওয়ার প্রলোভনে
কেবলই ভেসে বেড়াচ্ছি।

সঞ্চয়



যেটুকু কবিতা তোমার কাছে রেখেছিলাম জমা
ফুলেফেঁপে আজ অনেক কিছু
প্রশ্নবোধক চিহ্নটির পিছু
কোটি কোটি দাঁড়ি, কোটি কোটি কমা...
সৃষ্টি হয়েছে কবিতাটি আজ
কাব্যতিলোত্তমা...

যাই



কোলাহলে ভরপুর শূন্যতা নিয়ে
একলা মানুষটা তখন ছায়া হতে চায়...!

মূল্যহীন হতে হতে
একদিন নি:শ্বাসও ছেড়ে চলে যায়....!

বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১২

অন্যত্র


তোমাকে উৎসবে নিয়ে যাবো
যেমন দিনের মতো রাত,
কোলাহলের মতো নির্জনতা 
স্বপ্নের মতো বাস্তবতায়; যেখানে সুখ বলে কোনো শব্দ হয় না 
আর তাই দুঃখবোধের কোনো ভয় নেই

তোমার অনুভূতির ভিতর 
ঢুকিয়ে দেবো অন্য জগৎ 
সেখানে শয়তানের অস্তিত্ব থাকেনা
তাই কোনো ঈশ্বরের মুখাপেক্ষী হবে না তুমি

তোমার ইবাদত কেবলই স্বতঃস্ফূর্ত এবং একান্ত 
তোমার অনুভূতির ভিতর ঢুকিয়ে দেবো স্বয়ং ঈশ্বর

তোমাকে উৎসবে নিয়ে যাবো 
তোমাকে নিয়ে আমার জগতে ফিরে যাবো!

আসময়

অপেক্ষায় থেমে যায় সময়
আর দীর্ঘ হয়ে যায় দূরত্ব...
তাকালেই ফিকে হয়ে যায় দৃশ্যপট,
সূর্যটা যেন তোমারই অন্তর্গত।

সন্ধ্যার রঙে মিলে-মিশে থাকো তুমি
ছায়ার মতো দীর্ঘ হও আঙিনায়,
একলা দাঁড়িয়ে দিগন্তের শেষ প্রান্তে—
যেখানে এসে পথগুলো সব হারায়।

নিঃশব্দে জমেছে কুয়াশা-ধোঁয়া
স্মৃতির পাতায় ধুলোর আস্তরণ,
তুমি নেই, তবু তোমারই উত্তাপে—
পুড়ছে সমস্ত ধূসর জীবনযাপন।

কবিতার রসুল



ধরে নাও, কিয়ামতের ঠিক আগে
আমাকে আবিষ্কার করা হলো
অথবা
আমার লেখা একমাত্র কবিতাটি মানুষ বুঝতে পারলো
পড়তে পারলো আমার উদ্ভাবিত ভাষা


ধ্বংসের ভিতর মানুষের একমাত্র উপলব্ধির বিষয় হলো কবিতা


তবেতো
আমিই কবিতার রসুল
আমার পরে আর কোন কবির জন্ম হবে না

সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১২

দাবী


আমাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হলো
আর সব দাঁড়কাকের মতো
আমাকেও আশ্রয় দিলো আম গাছ
যার মুকুলের গন্ধভরা ছিলো ঝড়ের বার্তা
আমি প্রথম সেই ভাষা শিখলাম
ঝড় আমারও বন্ধু হলো


একদিন বিকেলে,
সেই লণ্ডভণ্ড আম গাছের গ্রাম ছেড়ে...
অনেক দূরে, নদীর কাছে.....
গোমতী, তারপর তিতাস,
আমাকে সে নামিয়ে দিলো গোকর্ণ ঘাটে
কাছেপিঠে কোথায় জানি ইটভাটার চুল্লির বেশে
দাঁড়িয়ে আছে অশোক স্তম্ভ, নীতিকথা- গল্প


কে জানি আমার ক্ষুধাকে দিলো
নলা মাছের ঝোলে ঝাল ভাত
আমাকে গ্রাস করে নিলো মানুষের অধিকার
আমার একমাত্র দাবী হয়ে গেলো
মানুষ হয়ে জন্মাবার....

রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২

প্রেমিক-৪০



তোমার পুরুষ গুলো এখন মিথ্যা আবর্তে ঘুরপাক খায়
এখনো তোমার বয়ঃস্বন্ধি কালের স্রোত
এইবার যৌবন খুলে বিষাক্ত ফাল্গুন মেলো ধরো
আমিও প্রেমিক হয়ে মিথ্যে হয়ে যাবো ...

শনিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১২

ভুলের কাব্য


আমার ভুল তোমার মতো নয়
আমার ভুলে পাপ পূণ্য নেই
আমার ভুলের হা-হুতাশ গুলো প্রেম
তোমার ভুলের ব্যথায় ব্যথায় জমে।


আমার ভুলে চক্ষু অন্ধকার
তোমার ভুলের বিজয় সুনিশ্চিত
আমি কেবল ভুলের ঘোরে ভাসি
একাকার ওই তোমার ভুলের হাসি।


ভুলের মায়া ভুল ব্যথাতে ভুলুক
তোমার আমার ভুল বাতাসের দুখ
আমি তোমার ভুলে একাকার
ছল ছল চোখে এইতো আমার সুখ!

শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২

প্রেমিক- ৩৮



আশাহত রোদ্দুর দেখছি
দেখেছি আহত সমুদ্দুর
হাতের আঙ্গুল ছুঁয়েছিল শুকনো পাতার আগুন
কোথাও কবিতারা ভেসে গেছে কাগজের নৌকা হয়ে
বিষণ্ণ বৃষ্টি আর তোমাদের জলাধারে

তারপর ও পাল তুলে উড়ি
বিজিত নাবিক হয়ে

ব্যাথা - ২

একটা দ্রুতগামি স্বপ্নের সাথে ধাক্কা খেয়েছি
এখন ঘুমতে গেলেই শরীর ব্যাথা করে

বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১২

সমস্ত ঘৃণার শেষে



 
আমাকে ঘৃণা করার আয়োজন যতই করো 
নিজেকে কিছুটা সামলে রেখো 
ভালোবাসবার সামর্থ্যটুকু হারিয়ে ফেলো না। 

এমনও তো হতে পারে সমস্ত ঘৃণার শেষে 
আর কোনো জন্ম, কিয়ামত, হাসর, এমনকি সময় 
আমাকে ভালোবাসা ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।