শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১১

নূপুরের যাপনে




এখন শুধু নূপুরের শব্দ পাই 
যেখানে সেখানে এখানে..... 

ঘুমের ভিতরে অথবা জেগে থাকার ঘোরে
হাঁটতে হাঁটতে কোলাহলে আর 
একান্ত অবসরের নিরব গভীরে 
এখন কেবল বিভোর হয়ে থাকি 
তোমার উজাড় শব্দের অনুরণনে 

শব্দে শব্দে আকুল হয়ে যাই 
ব্যাকুল প্রেমের স্বপ্ন ডানা মেলে 
উড়ে যাবো তুমি নামের ঝড়ে 
আমায় কেবল আগলে রেখো তুমি 
তোমার স্নিগ্ধ নূপুরের যাপনে...

তৃষ্ণা




প্রতিদিনই মারা যাচ্ছি ফোঁটা ফোঁটা পানির মত 
একদিন মৃত্যুও শেষ হয়ে যাবে..... 

সেইদিন তোমার, আমার তৃষ্ণা পাবে!

নতুন কথা




এসো, এবার নতুন করে কথা বলি;

তীব্র ক্ষুধা ভুলিয়ে দেবো কথায় কথায়, 
নতুন কথায়.....

আর প্রেম নয়, স্বাধীনতা নয়, বিক্ষোভ নয়;
বন্দি হবো, বন্দিত্বে আশা রাখো। 

শীত বসন্ত, বর্ষাও নয়, নতুন ঋতু
যৌবন আর জরার খবর আর নেবো না; 
কথা হবে অমরত্বের; এবার হবে নতুন কিছু, 
নতুন ভাষায়.....

এসো এবার নতুন একটা স্বপ্ন দেখি;
নতুন রঙের.....

কথায় কথায় ব্যাথা ভুলবে ভুল পৃথিবী
তুমি আমি ভুলের মানুষ; সেই কথাটা ভুলেই যাবো; 
নতুনত্বের নতুনতায়.....

এসো, এবার নতুন শেষের গল্প লিখি

কবিতার অভ্যুত্থান চাই!



এমন কবিতা চাই-
যে সূর্যে বিস্ফোরণ ঘটাবে
চাঁদকে ছাড়খার করে দেবে
গোলাপে গোলাপে ফোটাবে গ্রেনেড
আর রজনীগন্ধাকে করবে ধারালো বেয়োনেট।

এমন একটা কবিতা লিখতে হবে,
যেটা শোষিতের রক্তে উত্তাপ জাগাবে
স্বৈরতন্ত্রের সকল তন্ত্রমন্ত্র করবে অকেজো
স্বপ্ন দেখাবে স্লোগানে স্লোগানে.....
যেখানে প্রেমের প্রতিশব্দ হবে অধিকার
আর ভালোবাসা হবে সার্বজনীন 

এইসময় এমন একটা কবিতা প্রয়োজন,
যেটা আমাদের ঘুমাতে দেবে না...
রাত্রির আঁধারে যখন ঘুমের ছায়া নামে,
আমাদের চোখে তখন তেজে ভরা বিদ্রোহের শিখা।
স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রচিত হবে মহাকাব্য,
আমাদের কলমে জন্ম নেবে সংগ্রামের ভাষা।

প্রত্যেক নিঃশ্বাসে শুনি আমরা দুর্বলের কান্না,
অত্যাচারের বিরুদ্ধে উচ্চারিত প্রতিটি বাণী।
জেগে উঠি আমরা, ভেঙে ফেলি নিঃশব্দতার শিকল,
আমাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হবে মুক্তির গান।

এই কবিতা আমাদের অস্ত্র, আমাদের জাগরণের সুর,
স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে উচ্চারণ; শেষপর্যন্ত করব।
কাঁপবে পৃথিবী, ভয় পাবে অন্ধকারের শক্তি,
আমাদের নির্ঘুম লাল লাল চোখে লেখা হবে নতুন প্রভাতের গান।

এইসময় এমনই একটা কবিতা প্রয়োজন
আমি সেই কবিতা চাই
আমি একটা তুমুল 'কবিতার অভ্যুত্থান চাই'

শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১১

সিজোফ্রেনিয়ায়



যে কবিতার কোন অর্থ নেই
সেই কবিতায়
একটা ছন্নছাড়া বিকেল ডুবিয়ে দিলাম
সন্ধ্যার মশাল মিছিল জুড়ে
স্লোগানে স্লোগানে নিবেদিত হলো প্রেম

একটা লাল গোলাপ,
ভাজ খুলে দু:খের পাপড়ি উড়ায়
একটা বাচাল কবিতায় ডুবে যাচ্ছে রাত
মাতালের চিৎকার আর
সিজোফ্রেনিয়ায়!!!
                                                        

হাহাকারের গান




মনের ভেতর গাইতেছে কি
হাহাকারের গান,
তুমি ছাড়া এই রাত-দিন
অশান্ত বেঈমান...
স্মৃতির ধূসর ধূলিকণা
জমছে বুকের বামে,
লণ্ডভণ্ড ভেতর পোড়ে
তুমি ফেরার নামে...
শূন্য ঘরে দেয়াল ঘড়ি
টিকটিক করে হাসে,
এই আমিটা ডুবে মরি
তোমার দীর্ঘশ্বাসে...
©রি হোসাইন

বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১১

অদূরের ডাক



চোখ থেখে রক্ত কেড়ে নেবে রক্ত জবা
আমাদের করতলে অভিমানী লাঙ্গলের ফলা
এইবার থেকে আমি তুমি হবো সব হারাবার দলে
শালিকেরাও হবে সর্ব হারা

অভিশাপ থেকে চলে গেছে বৃষ্টির ছায়া
প্রজাপতি ঘুরে ফিরে আসে দু:খ দুয়ারে
অশুভ বাতাসের তোরে

রক্তের ভাষা আমি জানি না
তবু তোমাকে জানাতে হবে সেই পরিচয়
এইবার তারা করে গেল অবহেলা,
আমাকে দুলিয়ে
ফ্যাকেশে ঠোটের গান শুধু স্বপ্নের বিশ ঢালে

আমাদের ক্রোধ গুলো মাটিকে নিয়ে
আমার ক্রোধ গুলো আশাকে উড়ে না কেন ?

পরিনাম আগুন হবে




তোমাকে তোমার মত আঁকতে গেলে
পরিনাম আগুন হবে

তারপরও আমার হাতে কিছু বৃক্ষের দাবিদাওয়া আছে
বসন্তরা এত-ই অবুঝ,
থেমে আছে
তোমার আগুনে জ্বলে যাওয়া প্রেমিকের
ছাই থেকে রং নিতে,
তাই দিয়ে ফাগুন সাজাবে

কিছু পাখিদের প্রতিবাদ আছে,
আছে মাছেদের লালচোখা স্বপ্ন
সব কিছু জেনে গুল্মরা অবাক হলো
হাত ধরে সমুদ্রে নিয়ে গেলো
তোমার মত তোমাকে আঁকতে গেলে
সমুদ্র শুকিয়ে যাবে

আর শুধু বসন্ত রঙিন থেকে রঙিনতর
প্রেমিকের উচ্ছিষ্ট ছাই গুলো,
অতিথি পাখির পলকের আশ্রয় খুঁজে নেবে

জিয়ারত


আমি আমার দাদার কবর চিনতাম
এখন আর চিনিনা
দাদীর কবর, নানা ও নানির কবর আমি দেখিইনি
বাবার কবরও দেখিনি
তবুও, এর মুখে তার মুখে শুনে অনুমান করে,
এক এক শহরের এক এক গোরস্থান ঘুরে
জিয়ারত করি, দোয়া দরুদ পড়ি
আমি গোরস্থানে গোরস্থানে যাই

অভিজাত, বুদ্ধিজীবী, মাজার কিংবা গণকবর
গোরস্তানেরও বৈষম্য আছে, বিপ্লব আছে
এর মধ্যেই আমি আমার কবর খুঁজি
জিয়ারতে ক্লান্ত হবে কে, শান্ত হবে কে
ক্লান্ত বিষণ্নতায় হৃদরের বোঝা বুঝি

অতঃপর ইচ্ছে হয়
আমার জানাজায় একপাল চড়ুই পাখি ডাকুক
অংশ নিক কুকুর, বিড়াল আর দাঁড়কাক
আমার মৃতদেহ, শিমুল কাঠের কফিন
একটা বাঁশের ভেলায় সাগরে ভেসে বেড়াক

তার আগে,
আমার চোখ, কলিজা, গুর্দা, হৃদয় আর কারো হোক
আমাকে যে ভালোবাসে, তারা এইসব দেখুক
আমার এই নির্বোধ মগজ; কারো বোধের উৎস হোক...

সৃষ্টিতত্ত্ব



তোমাকে ভালোবাসার জন্য
ছয়শ কোটি বছর ধরে, জন্মে যাচ্ছি

তারও আগে,
যখন জন্মের প্রয়োজন ছিলো না,
মৃত্যু ছিলো না.... !
সেই তখন থেকে, তোমাকেই ভালোবাসি

তোমাকে ভালোবাসি বলেই
সংঘটিত হয় বিগ ব্যাং, 
শুরু হয় সময়
ছড়িয়ে পড়ে ঈশ্বর কণা,
কুন, 
ফাইয়াকুন, 
হিলিয়াম থেকে নক্ষত্রপুঞ্জ
তোমাকে ভালোবাসার জন্যই
আল্লাহ বানালো আদম, তার মধ্যে আমি

তোমাকে ভালোবাসার জন্য 
যদি একটা জীবনই যথেষ্ট হতো
তাহলে এই বিশ্বচরাচর, 
এই কক্ষপথ, 
এই ঘূর্ণন
এসবের প্রয়োজনই ছিলো না

তোমাকে ভালোবাসার জন্য 
যদি একটা জীবনই যথেষ্ট হতো
তাহলে আমি জন্মই নিতাম না.... 
তাহলে হতোনা মৃত্যুও,
এই একটা জীবনকে শেষই হতে দিতাম না... 


স্বপ্ন - ল্যাংস্টন হিউজ (অনুবাদ কবিতা)

তুমিতো জানোই,
যদি স্বপ্ন না থাকে,
জীবন একটা ডানা ভাঙা পাখির মতো
উড়তে পারে না।
তুমিতো জানোই,
যদি স্বপ্ন চলে যায়,
জীবন আর কোন শষ্য ফলায় না
একটা বরফ জমা মাঠের মতো...
আমাকে আঁকড়ে ধরো
স্বপ্ন ভেবে,
তারপর, চলো বাঁচি, বাঁচার মতো...


ভাবানুবাদ #   রি হোসাইন



ল্যাংস্টন হিউজ (১ ফেব্রুয়ারি ১৯০২ - ২২ মে ১৯৬৭) ছিলেন একজন মার্কিন কবি, কলাম লেখক, প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক। হিউজ ১৯০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিজুরির জোপলিন এ জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল শিক্ষক চার্লস হেনরি ল্যাংস্টন তার পিতা ছিলেন আফ্রো-আমেরিকানদের ভোট ও অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী এবং মা ছিলেন শিক্ষিকা ক্যারোলিন। তিনি ছিলেন পিতামাতার দ্বিতীয় সন্তান। তার রচিত কবিতাসমূহের মধ্যে ড্রিমস (Dreams) নামক কবিতাটি অন্যতম। এটি বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে সিলেবাসভুক্ত।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

ছাই



এখন আমি আনমনে পথ হেঁটে যাই 
কথা বলি রোদের সাথে
বৃষ্টিতে ভিজি অযথাই

শীতার্ত পাখিদের আপ্যায়নে
রাত কাটাই কুয়াশার সাথে
অথবা, ভুল করে তোমার গলিতে ঢুকে যাই। 

প্রতিবারই নিষিদ্ধ গলির ভিতর ঢুকে
মনে হয়; জানা যাক তোমার কুশল
জেনে যাই; কেমন ছিলে, কেমন আছো
অথবা, কি ভীষণ জ্বলি- পুড়ি, একবার দেখাই 

কড়া নাড়ার শব্দের ভুলে 
প্রতিবার দরজা খুলে
তুমি শুধু খুঁজে পাও কিছু ছাই! 


রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১১

অন্তরজুড়ে



তোমাদের আছে আণবিক বোমা
পেন্টাগন আর নাসা,
আমাদের আছে অন্তরজুড়ে
মানবিক ভালোবাসা।

তোমাদের হাতে মারণাস্ত্র
রক্তে ভেজা মাটি,
আমাদের বুকে চির অমলিন
বিবেক পরিপাটি।

তোমাদের আছে যান্ত্রিক সুখ
পাথরে গড়া প্রাণ,
আমাদের আছে মাটির টানে
সহজ মনের গান।

তোমাদের আছে ধ্বংসের নেশা
বিবেচনাহীন মন,
আমাদের আছে আত্মত্যাগে
মহীয়ান প্রিয়জন।

শেষে দেখা যাবে তোমাদের সব
হয়ে গেছে উড়ো ধুলো,
বেঁচে থাকবে ভালোবাসা প্রেম
মায়া-মানবতাগুলো।

©রি হোসাইন

শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১

ভোতা মানুষ


আমার ক্রোধ গুলো
আমি সাজাতে পারিনা তেমন
যেমন করে মুখ বুজে সয়ে যেতে পারে
জনসাধারণ

মহাজাগতিক


ঘুরেফিরে শুধু আমিতেই ফিরে আসি,
মহাজাগতিক বিষণ্ণ শূন্যতা—
আজন্ম জনম জন্মেও ভালোবাসি,
তুমি 'নাই' দিয়ে তোমাকেই গড়ি সেথা।

©রি হোসাইন

শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১১

প্রেম হলো না



পালাবার কোনো পথ ছিল না
অপরাধী প্রেম অনুতাপ নিয়ে
লুকিয়ে ছিল প্রেমের ভিতরে
তোমাতে তবুও প্রেম হলো না।

উজাড় প্রেমের যন্ত্রনাতে আমি দিশাহারা
হাঁটতে বসতে ইলিশ মাছেও তোমার চেহারা
মিশে থাকো সব কথা আর গানে
তুমি তুমি শুধু চারপাশ ঘেরা
তবুও যে হায় সাধ মিটে না.....
সবকিছু গেলো সে প্রেমের তরে...
প্রেমিক তোমার
 সার্থক হলো....
 সার্থক হলো....
পুরোটা জীবন প্রেম করে গেলো
তোমাতে তবুও প্রেম হলো না!

পালাবার পথ থাকতো যদি...
আর যতসব প্রেমিক তোমার
লুকানো প্রেমের মন্ত্রনাতে
ছিনিয়ে তাদের হৃদয়ের তাস
নিবেদিত প্রেম উড়িয়ে দিতাম প্রেম জুয়াতে
চারিদিকে তুমি খুঁজে পেতে শুধু আমার বাতাস
পালাবার পথ থাকতো যদি...
চিরায়ত প্রেমে তোমাতেই পড়ে
দৌড়ে পালাতাম!

পালাবার পথ থাকতো যদি...
জনম জনম একমাত্র
আমিই তোমার প্রেমিক হতাম!

এইবার হবে



এইবার হবে
তোমার সমস্ত কোষে কোষে, স্নায়ুর ভিতর
আমার একটা কিছু হবে

না থাকার মতো করে


তুমি দেখো নাই তুমি চেন নাই
তুমি জানো নাই আর জানবে না কখনো
ভালবাসা.... তোমারে ভালোবেসে যাবো গোপন করে

আমি থাকি সবসময় তোমার পাশে
না থাকার মতো করে......


আমদানি


এইবার জেগে উঠবে
জেগে উঠবে তারা বিদেশী নর্তকীর
গোস্তের উত্তালে .............. এই বার হবে জম জমাট
লড়াইয়ে.... দেশী গনীকারা কোথায় যাবে?
হায় হায় কোথায় যাবে....................
মুখ বন্ধ সুশীল সমাজ ..........
চোখ খোলা রাখে.......... গোস্তের উত্তালে ......

রাশিচক্র


আমি সিংহ, তুমি মিথুন ছিলে
অথচ কি ভুল.... তুমি-ই আমায় খেলে
রাশিচক্র ভুল... ভুল না হলে কি হায়
খাদ্য খাদকেরে খায়?

তুমি খেলে এমন তাচ্ছিল্যে
খেলে না; আসলে, জুঠা করে দিলে
শুশ্রুষায়, সোহাগে যতনে
অবশেষে ছুঁড়ে ফেলে দিলে
রাশিচক্র ঠিক.... ঠিক না হলে কি হায়
মিথুনে মিথুন মিলে যায়?

এখন আর জুঠারে কে খায়?