বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

বৈশাখ

আকাশে আগুন লাগুক,
সেই আগুনে ছাই হয়ে যাক দুপুর..
বিকেলের গন্ধে মিশুক সবুজ দমকা..
সন্ধ্যার আগেই পুনঃর্জন্ম হোক সূর্যের...
আমি সূর্যাস্তের অনুগামী নই..!!! 

নববর্ষ (ছোট গল্প )

 কাল খুব সকালে কত্তার কাচারি ঘরে যাতি হবে.. কত্তার মন ভালো থাকতে থাকতেই... কখন জানি আবার কত্তার মন উল্টি যায়... আমেনার মা; রাইতের ভাতে দুইমুঠ চাইল বাড়িয়ে দিও আর ভাতে পানি দিও.. বেয়াইন্নাকালে পেয়াজ মরিচ দিয়ে মাখায়ে পান্তা খেয়েই দৌড় দেবানি... এইবার শিলাবৃষ্টিতে পেয়াজ পচিছে.... সক্কাল সক্কাল না গেলি পিঠে চাবুক পরবিনে।

সহ-মরনে

আমি নিম গাছের কাছে
আম গাছের গল্প বললাম
যে মুকুল ঝরে গেছে তার হয়ে...
কোন দিন হয়নি সাক্ষাৎ
নিম ফুলে - আমের মুকুলে
যে দু:খ দিয়েছে দমকা বাতাস
নিম ফুলে দুলে গেলো সেই হাহুতাশ
যেনো তারা বন্ধু ছিলো
নিম ফুলও ঝরে গেলো বসন্ত বাতাসে
এইবার দেখা হবে ধুলাবালি মিলেমিশে
নিম ফুলে - আমের মুকুলে
ইতিহাস হয়ে যাবে সহ-মরনে
আহা, তারা বন্ধু ছিলো 

শৌখিন ঘুম

বেঁচে থাকা বোধ টাকে অস্বস্তির ঘুম দিয়ে গিলে ফেলি
ইদানিং প্রতি রাতে; রাতারাতি মৃত্যুর সুখ পেতে চাই
কেউ কেউ জেনে গিয়েছিলো কি;
আধার যে কত অসহায়?
আরো খুব পরিণত রাত খুঁজে খুঁজে;
শৌখিন ঘুম কেটে যায় 

বসবাস

এলোমেলো প্রেম ছিটিয়ে
প্রতারক সূর্যটা দুপুর ডেকে আনে
তখন আমার আহত ক্ষুধা
বিব্রত উত্তাপ খেতে চায়
তারপর ফিরে আসা সন্ধ্যার সুখ
তোমাতেই পরাজিত হয়
যতবার সূর্যটা প্রতারণা করে যায়
প্রতিবার প্রেয়সী আমার;
অন্ধকারের বর দিয়ে যায়...
এবং রাতের শান্ত ছায়া
মিলেমিশে যায় প্রেম আর ক্ষুধায়

অভিশাপ -২


আমার দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ নয় কাকের
সোনালুর ডাল জুড়ে তার সাম্রাজ্যের
একটা অভদ্র সকালের পড়ন্ত অকাল
এ যেনো সবুজ রোদ, সূর্যটা মাতাল
হেকে হেকে কাক ডাকে চড়ুই বিলাপ
আমিতো বন্ধু সূর্যকে দেয়া তোমার অভিশাপ

অপেক্ষার সাতকাহন

 রোজ সকালে গাছে পানি দাও

আমাকে দেওনা
আমার তাই শিকড় গজায় না
আর তাই আটকে থাকিনা টবে কিংবা বিছানায়
পাখি হয়ে উড়ে যাই,
প্রতিদিন খাবার দাও পাখিদের
আমাকে দেওনা
আর তাই ফিরে আসি বিছানায়
শিকড় খুজে বেড়াই
পাখির বদলে
নিজেকে ঘাস ফুল ভাবি
এইভাবে
রাত কাটে, সকাল যায়
দুপুর জ্বলে বিকেল হয়
ব্যাকুল সন্ধ্যা পেরোয়
আমার অপেক্ষা
ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়
সারা ঘর, বারান্দায়
মশারীর কোনায় কোনায়...

আমাকে দু:খ দিওনা

আমাকে দু:খ দিওনা
বিনিময় তুমি সইতে পারবে না
হয়তো পাথর হয়ে যাবো
তবে এটা চুড়ান্ত নয়, আমি নদী হতে চাই,
সেই জন্য যতটুকু দরকার
ততটুকু পর্যন্ত দিলেও
যা ফেরত পাবে;
সেটা বহন করা তোমার পক্ষে সম্ভব নয়
যে যেখান থেকে যতটা দু:খ দিয়েছে
সবটাই সাজিয়ে রেখেছি
এখনো জমা আছে আমড়া গাছের বিদায়
যার সাথে রোজ বিকেলে কথা হতো
হারিয়ে গিয়েছিলো ঢোড়া সাপ
যে আমার প্রথম বন্ধু ছিলো
আমার নির্জন দুপুরের পবিত্র রোদ
একদিন জ্বলেপুড়ে কপালে দিয়েছে ছোবল
সবটাই সাজিয়ে রেখেছি,
আর এই বিষাদপূর্ণ হৃদয় নিয়ে
তোমাকে চেয়েছি, কেবলই
আমাকে দু:খ দিওনা
বিনিময়ে আমার সবকিছু তোমার হয়ে যেতে পারে
এই ভার কি আর, তোমার
আনকোরা হৃদয় নিতে পারে... !!!

পথচারী

হায়রে পথ,
চেনা গলি, ফুটপাত,
চলে গেছে বহুদূরে
দিগন্তের ঐ পারে
আহারে পথ...
মিশে আছে যে বিষাদ
ঝড়ের পাখিরা উড়ে
অচেনা চলাচল জুড়ে 

গ্রীষ্মকাল


বিকাল ঝুলে থাকে বারান্দার রেলিঙে
গরমের দিনে
হাতপাখায় ক্লান্ত হয় আমগাছ
সন্ধ্যা নামার আগে, ঝড়ের সন্ধানে
বেড়িয়ে পড়ে আম কুড়ানি কৈশোর
তুমিতো জানোই,
এই অকাল জুড়ে ক্ষুদামন্দা
শিলাবৃষ্টির তান্ডব জুড়ে
রাতজাগা বিরহের উল্লাস 

বিকাল

আকাশের প্রেমে,
উড়ে গিয়ে নি:শেষ হয়ে যাওয়া একটা নদী
চুপচাপ শুয়ে ছিলো
ধান ক্ষেতের বিছানায়
পালতোলা স্মৃতির গন্ধ
এখনো লেগে আছে দামাল বাতাসে
ধানেরশীষের দোলায়
দুচোখ বর্ষা নামায়
আকাশ বৃষ্টি ফেরায়
সেই উদযাপনে বন্যার ভাষায় শাপলা ফুটে
তালের ডোঙায় ভেসে
কিশোরী রোদ ছড়ায়
তারপর আবার
আকাশের পিছুনেওয়া, শুন্য হয়ে যাওয়া
একটা নদী এইভাবেই
অন্তরে বিষন্ন ঘুমায়
যে নদী শুয়ে থাকে ধান ক্ষেতের বিছানায়


© রি হোসাইন 

ঝড়বৃষ্টির গল্প

যখন ঝড়বৃষ্টি হয়
আর সবার মতো আমারও খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে হয়
তার পর আয়েস করে এক কাপ ঘন দুধের চা
তারপর কবিতা? না, না গান?
না, গানও না
আমার যে মাতাল নেশাটা পায়
তা কেবল তুমি
এরপর তুমি এলে, ঝড়বৃষ্টি
ঝড়.... তারপর
বৃষ্টি... তারপর
তুমি... তুমি....
তুমি এলে চুলায় গ্যাস থাকে না
ফ্রিজে দুধ থাকে না....!!!
কেবল তুমি,
তুমি আর তুমি
ঝড়বৃষ্টি থেমে গেলে
কেনো জানি তুমি থাকো না....
এক কাপ বিষাদ চায়ের চুমুক
জুড়ে থাকে তোমার কল্পনা

© রি হোসাইন 

আর সব রূপকথার পরে

আমি চাই বদলে যাক পৃথিবীর ভাষা
কাক ডাকুক সুসংবাদের শব্দে
বেড়ালের কণ্ঠে থাকুক শুভকামনা
কুকুরের ডাকগুলো সুমধুর গান হয়ে যাক
একলা শাকিল আবার দল বাঁধুক...
পিচের রাস্তাগুলো হয়ে যাক
পাহাড়ী জলাধারা, ঝর্ণা হয়ে ঝরুক
মানুষগুলো মাছ হয়ে যাক
অথবা, মৌমাছি হয়ে উড়ুক
চড়ুইদের ভাষা হোক সার্বজনীন
টিয়াপাখির ঝাঁক দেখা যাক
সকাল, দুপুর, সন্ধ্যায়
উড়োজাহাজগুলো শঙ্খচিল হয়ে
ঘর বাঁধুক সুমাত্রাদ্বীপে
বন্ধুত্ব হোক পাথরের সাথে বৃষ্টির
একে অপরকে কথা দিক, শিলাবৃষ্টি আর হবে না
বরফের দেশে গিয়ে চন্দ্রিমা দেখুক প্রজাপতিরা
নেকড়ে কিংবা মরুভাল্লুকের গা থেকে
ভেসে আসুক স্বর্গের সুবাস
মৌমাছির গুঞ্জনের মত হোক বাঘের চিৎকার
ভয়হীন, জরাহীন এবং স্বতঃস্ফূর্ত
আর সব রূপকথার পরে...

পৃথিবীটা মৌমাছি অথবা মাছেদেরই হয়ে যাক...


© রি হোসাইন 

প্রথম প্রেম

সে প্রথম প্রেম...
প্রথম চুম্বনের কুন্ডলীপাকা ধোয়া...
আজও, এই পর্যন্ত
লোহিত কনিকারা জেগে আছে
আমি জানি,
এ জীবনে আর ঘুম আসবে না...
পালিয়ে যাওয়া যাবেনা
স্বপ্নে, কিংবা অন্য গ্রহে...
সে প্রথম, যার কোন শেষ নেই...!
আমাকে আটকে রেখেছে সেখানে..
যার কোন মহাকাশ নেই...


©রি হোসাইন  

তোমার সাথে কথা বলার সময়

 


আমি যখন বুঝতে পারলাম
তোমার সাথে কথা বলার সময়
আমাকে ভাবতে হবে...
তখন আমি গাছ হতে চাইলাম
যার কোন শব্দ নেই,
কিন্তু কী বিস্ময়কর ভাবে
তোমাকে জড়িয়ে জাপ্টে রাখা যেতো
সুশীতল ছায়ার আলিঙ্গনে
তারপর; আমি যদি গাছ হই
আমার পাতা ঝরার শব্দেও
তুমি কি বিব্রত হবে?
কিংবা নদী হয়ে গেলে,
জলের কলকল শব্দে
বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে তোমার মন
তোমার সাথে কথা বলার সময়
আমি ভাববো কি করে....
আমার ভাবনাযন্ত্র কি তখন বৃক্ষের মত নয়?
আমার মননে মগজে কি নদী বয়ে যায় না?

© রি হোসাইন

বাঁচতে ইচ্ছে হচ্ছে না

মানুষ হয়ে জন্মানোর অপরাধবোধে
বাঁচতে ইচ্ছে হচ্ছে না...
হাহুতাশ প্রেম দ্বিধাহীন ব্যভিচারে
আটকে গেছে ব্যর্থ মানচিত্রের কারাগারে
আমার আত্মস্বীকৃত আধুনিকতায়
পৃথিবীর আয়ুকাল কতটা বাড়ছে
আত্মাহুতির উড়ালে উইপোকা আর প্রজাপতি
সবকিছুর হিসেব রাখছে...
প্রশ্নবিদ্ধ সভ্যতার আড়ালে
যে বর্বরতার চর্চা আমার ভিতরে
চড়ুই পাখিরা কি আমাকে সভ্য মনে করে?
কাঠবিড়ালি কিংবা শালিক...
আমার নির্বোধ নৃত্যের তালে
এখন মৌমাছির উপহাস ছাড়া
আর কোন আনন্দ নেই..

© রি হোসাইন 

বাবা



আমার বাবা যেন একটা পোষা বিড়ালের মতো।
খুব অল্প বয়সেই আমি তার প্রভু হয়েছিলাম।

কিন্তু
তিনি আমার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না।
তিনি আমাকে ভয় পেতেন।
কখনো মারাত্মক হিংস্র, কখনো নতজানু।
কামড়ানো, কিংবা আঁচড় কাটার মতো
এমন অনেক কিছুই,
আর আমি সস্নেহে সব সয়ে গেছি।

বাবা দিবসের বাবারা যেমন হয়,
আমার বাবা তেমন ছিলেন না।
তারপরও তিনি আমার বাবা ছিলেন।
তার আরও যারা সন্তান,
তিনি সবার কাছে একরকম ছিলেন না।
আমার সৎ ভাই,
আমি মনে করতাম সে আমার বাবার খুব কাছের।
ঠিক আমার আরেকটা পোষা বিড়ালের মতো।
আমার সৎ মা, সৎ বোনেরা,
তারাও যেন বিড়াল।
আর আমি, একপাল বিড়ালের পালক।

আমার মা,
আমার ভাইবোন,
তারা দ্বিধাবিভক্ত,
তারা এখনো জানেন না, কোন দলে।
বিড়াল নাকি বিড়াল পালক।
বাবা দিবসের বাবারা যেমন হয়,
আমার বাবা তেমন ছিলেন না।
তারপরও তিনি আমার বাবা ছিলেন।
আর তাই
বিড়ালের প্রতি আমার আগাধ ভালোবাসা।

© রি হোসাইন 

কাপুরুষের মা

ষোলো কোটি দুঃখের পরও
যে সুখটা আমার ছিল
তুমি আজ সেটা কেড়ে নিলে
ষোলো কোটি অবিশ্বাসের পরেও
যে বিশ্বাসটা আমার ছিল
তুমি আজ সেটাও ভেঙে দিলে
ষোলো কোটি মৃত্যু নিয়ে
আমি এক বিষাদ রেললাইন
আমার সমান্তরালে রুদ্ধশ্বাস ঘৃণা
আমার ইতিহাস জুড়ে
আরও একটা পরাজয় লিখে দিলে
হে মাটি,
হে স্বদেশ,
তুমি কি আমার ছিলে?
হে আমার মা
তুমি কি কেবল ষোলো কোটি কাপুরুষ জন্ম দিয়েছিলে???
© রি হোসাইন

স্বপ্ন - ল্যাংস্টন হিউজ (ভাবানুবাদ রি হোসাইন )

তুমিতো জানোই,

যদি স্বপ্ন না থাকে,
জীবন একটা ডানা ভাঙা পাখির মতো
উড়তে পারে না।
তুমিতো জানোই,
যদি স্বপ্ন চলে যায়,
জীবন একটা বরফ জমা মাঠের মতো...
যেখানে আর কোন শষ্য ফলে না


তারপর, চলো বাঁচি, বাঁচার মতো...
স্বপ্ন ভেবে, আমাকে আঁকড়ে ধরোনা...!


আমাকে অনেক কিছু করতে হবে

 এখনো আমার চোখে ঘুম নেই

আমি ঘুমিয়ে পড়লে যদি ফিরে আসে ফ্যাসিস্ট
লুট করে নেয় আমাদের স্বপ্ন
ওদের চেষ্টা তো থেমে নেই
এখনো আমার ঘুম নেই
আমার সময় থমকে গেছে
আমাকে অনেক কিছু করতে হবে
ভোরের সূর্যটার সাথে খেলতে হবে
দুপুর বানাতে, বিকেল আঁকতে হবে
আর রাতের আয়োজনগুলো ছড়িয়ে দেবো
প্রতিটি স্বপ্নবাজের চোখের ভিতরে
আমাকে অনেক কিছু করতে হবে
সাঈদের বুক থেকে বুলেট বের করতে হবে
মুগ্ধর পানির বোতল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হবে চতুর্দিক
সঞ্জীবনী ফোঁটায় আজীবনের তৃষ্ণা মিটে যাবে
বাংলাদেশের
আমাকে অনেক পথ যেতে হবে
প্রতিটা বুলেটের হিসেব নিতে হবে
প্রতিটা অশ্রুর জবাব
প্রতিটা কান্নার ভিতরের হাহাকার ফিরিয়ে দিতে হবে
এখনো আমার ঘুম নেই
তারপর,
আমাকে উঠতে হবে নতুন উচ্চতায়
যেন হিমালয়ও খুব ছোট দেখায়
আমার মানবিক বোধ আর বৈষম্যহীন যাত্রায়
হাতে হাত রাখবে বাংলাদেশ অবলীলায়
©রি হোসাইন